অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে মতপ্রকাশ, সংগঠন গঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নানা সীমাবদ্ধতার মুখে ছিল বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির দাবি, এ সময় সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল প্রকাশিত ‘বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটি ব্যবহার করে মতপ্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের কারণে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, ব্লগার, কবি ও লেখকদের অনেকেই ভয়ভীতি, সহিংসতা এবং আইনি ঝামেলার মুখোমুখি হন। বছরজুড়ে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তারের ঘটনাও উঠে এসেছে। গত ডিসেম্বরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়। অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি পোস্ট করেছিলেন।
এ ছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আহত শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৮ ডিসেম্বর সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওইদিন দেশের দুটি জাতীয় দৈনিকের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার অভিযোগ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ভবনে হামলার ঘটনাও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।