ঢাকা

১৬ বছরের শাসন শেষে হাঙ্গেরিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতার মাজিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইউরোপের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে হাঙ্গেরিতে টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা রুশপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটল। শনিবার (১০ মে) নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মধ্য ডানপন্থী নেতা পিটার মাজিয়ার। এর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা অরবানের দীর্ঘ শাসনের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটেছে। অরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নতুন নেতৃত্বে ইউরোপপন্থী অগ্রযাত্রা

নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার ইউরোপপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি ঘোষণা করেন, হাঙ্গেরিকে একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পথে এগিয়ে নেওয়াই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।

শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজধানী বুদাপেস্টে জনসমর্থন বাড়াতে তিনি সাধারণ মানুষকে ‘নতুন ইতিহাস লেখার’ আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হন।

‘হাঙ্গেরির জনগণই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়’

সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পিটার মাজিয়ার বলেন, পরিবর্তনের পথ সহজ নয় এবং তা দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তিই জয়ী হয়।

তার ভাষায়, “আজ বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষ একটু হলেও হাঙ্গেরীয় হতে চায়। আপনারা দেখিয়েছেন, সাধারণ মানুষই সবচেয়ে শক্তিশালী স্বৈরশাসককেও পরাজিত করতে পারে।”

পার্লামেন্টে ‘নতুন অধ্যায়’-এর ঘোষণা

শপথের আগে পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মাজিয়ার বলেন, তাঁর দল জনগণের কাছ থেকে দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার স্পষ্ট ম্যান্ডেট পেয়েছে।

তিনি বলেন, এই ম্যান্ডেট শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং পুরো শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য।

দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ

নতুন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, অরবানের দীর্ঘ শাসনামলে হাঙ্গেরিতে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে—যা জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

নির্বাচনে বড় পরিবর্তন

এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে হাঙ্গেরির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে। অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজ (Fidesz) বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। অন্যদিকে পিটার মাজিয়ারের মধ্য ডানপন্থী দল তিসজা পার্টি (Tisza Party) বিপুল জয় অর্জন করে।

এই নির্বাচনের ফলাফলই মূলত দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেয়।

অরবানের দীর্ঘ শাসনের সমাপ্তি

ভিক্টর অরবান ২০১০ সাল থেকে টানা হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে টানাপোড়েন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল।

বিশেষ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় ছিল।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিটার মাজিয়ারের উত্থান শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং হাঙ্গেরির বৈদেশিক নীতি ও অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ইউরোপপন্থী অবস্থান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে তাঁর সরকারকে একটি সংস্কারমুখী প্রশাসন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষ করে অর্থনীতি, প্রশাসন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন—সবই সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া।

এ অবস্থায় পিটার মাজিয়ার নেতৃত্ব কতটা দ্রুত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নজর এখন বুদাপেস্টের দিকেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স