ঢাকা

অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত একটি সংস্কারও করতে পারেনি: মান্না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাড়ে ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নতুন বই ‘ফ্যাসিবাদ, গণ–অভ্যুত্থান, বিপ্লব ও সংবিধান বিতর্ক’ প্রকাশ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘কালের দাবি প্রকাশনা’।

মান্না বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্বই হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ। কিন্তু এত সময় পার হয়ে গেলেও সরকার কোনো সংস্কারই করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার করে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৪৬টিতে সব দল একমত হয়েছে। তারপরও নির্বাচন নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই।”

মান্না স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও কর্তৃত্ব বিদেশি প্রভাবের মুখে পড়ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে।

তিনি বলেন, “বিদেশি পাসপোর্টধারীদের সংখ্যা দেশে এখন কত, সেই পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। এমন একজনকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে কখনো বাংলাদেশে এমন দায়িত্বে ছিলেন না। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনি সেনাবাহিনীর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করছেন। এসব নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।”

আলোচনা সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক অভিযোগ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে নানা কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।” চট্টগ্রামে আদালতের রায়ে একজন মেয়র দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু একই রকম রায়ে ঢাকায় বিএনপির ইশরাক হোসেন দায়িত্ব নিতে গেলেই তা নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। “তাহলে কি আইন একেক শহর বা ব্যক্তির জন্য একেক রকম?” প্রশ্ন তোলেন সাইফুল হক।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মিয়ানমারের সঙ্গে করিডর ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানান। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। করিডর নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না, বাস্তব বিশ্লেষণ হওয়া উচিত।”

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আধুনিক অর্থনীতিতে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাদের পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য আকবর খান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশরেকা অদিতি হক, লেখক অনিন্দ্য আরিফ, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, কবি মোহন রায়হান ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুন নুর।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স