ঢাকা

কোরবানির পশুর যেসব সমস্যা থাকলে কোরবানি হবে না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইসলামে কোরবানি ইসলামে কোরবানি

ইসলামে কোরবানির প্রচলন আজকের নয়—এর সূচনা নবী আদম (আ.)-এর যুগ থেকেই। সময়ের ধারাবাহিকতায় সব নবীর যুগেই এই বিধান ছিল বলে মত দিয়েছেন ইসলামবিষয়ক গবেষকগণ। এই বিধান কেবল একটি ধর্মীয় রীতিই নয়, বরং তা আল্লাহর প্রতি সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতীক।

এই ত্যাগের পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন হজরত ইবরাহিম (আ.)। তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। একাধিকবার স্বপ্নে নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি বুঝে যান—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্দেশ। এই প্রিয় বস্তু আর কেউ নয়, তাঁরই প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবরাহিম (আ.) চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন সন্তানের কোরবানি দিতে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা চেয়েছিলেন তাঁর প্রতি ইবরাহিমের নিষ্ঠা ও ত্যাগপরায়ণতার পরীক্ষা নিতে। অতঃপর ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে জান্নাতি একটি দুম্বা কোরবানি হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কোরবানি ইবাদত হিসেবে ইসলামে স্থায়ী রূপ পায়।

বর্তমানে সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব বা আবশ্যক। তবে যেসব পশু কোরবানির জন্য নির্বাচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান অনুযায়ী কিছু শর্ত অবশ্যই মানতে হবে।

যেসব পশু কোরবানিযোগ্য নয়:

১. সম্পূর্ণ অন্ধ
২. একেবারে বধির
৩. অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ
৪. এতটাই খোঁড়া যে কোরবানির স্থানে হেঁটে আসতে অক্ষম
৫. লেজের অধিকাংশ অংশ কাটা
৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা
৭. কানের বেশিরভাগ অংশ কাটা
৮. গোড়া থেকে শিং উপড়ে যাওয়া
৯. পাগল হয়ে ঘাস-পানি না খাওয়া
১০. অধিকাংশ দাঁত না থাকা
১১. দুধ শুকিয়ে যাওয়া
১২. ছাগলের একটি দুধ কাটা থাকলে
১৩. গরু বা মহিষের দুটি দুধ কাটা থাকলে

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংওয়ালা, মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেন। যার মুখ, পা ও চোখ মিটমিটে কালো ছিল।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৮)

হজরত আলী (রা.)-এর একটি বর্ণনায় এসেছে, “আল্লাহর রাসুল (সা.) কোরবানির পশুর চোখ ও কান সুস্থ হওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন।” (জামে তিরমিজি: ১৫০৩)

একবার এক ব্যক্তি হজরত আলী (রা.)-কে প্রশ্ন করেন, শিং ভাঙা গরু কোরবানি করা যাবে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেন, খোঁড়া পশু যদি কোরবানির স্থানে হেঁটে যেতে পারে, তাহলে তা কোরবানি করা বৈধ। (মুসনাদে আহমাদ: ৭৩৪)

পরিশেষে, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সর্বোচ্চ প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মাধ্যমে মুসলমানরা নবী ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের আদর্শে নিজেদের জীবন গঠনের অনুশীলন করেন। 

লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

  


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স