ঢাকা

জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
প্রায় ১২ বছর পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রায় ১২ বছর পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত

প্রায় ১২ বছর পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রোববার (১ জুন) সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের দেওয়া দলটির নিবন্ধন বাতিলের আদেশ বাতিল করে দেয় এবং নির্বাচন কমিশনকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

এই রায়ের ফলে জামায়াতে ইসলামী আবারও বাংলাদেশে একটি অনুমোদিত রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ ফিরে পেল।

রায়ের পর বিষয়টি দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন  তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করে, যা সুপ্রিম কোর্টে গৃহীত হয় এবং দলের পক্ষে রায় দেওয়া হয়।

ডন-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই রায় এমন সময় এসেছে, যখন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৪ সালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীর পাকিস্তানপন্থি অবস্থান এবং দলটির অতীত ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশে বিরাজমান বিতর্ক ও সমালোচনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। দলটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেও বিবেচিত ছিল।

শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াত নিষিদ্ধ না হলেও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার ও দণ্ডের আওতায় আনা হয়।

এদিকে ডন আরও জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সাময়িকভাবে আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত ১ জুন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত শুনানিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যায় উসকানি, সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং প্রতিরোধে ব্যর্থতার মতো পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দুটি রায় বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স