দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে এককালীন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ৩১ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
ট্রাস্টের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে থাকা আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, যাতে চিকিৎসার কারণে তাঁদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়।
যেভাবে আবেদন করবেন
চিকিৎসা অনুদান পেতে শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নিম্নলিখিত কাগজপত্র ও তথ্য আপলোড করা বাধ্যতামূলক—
জেলা সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যয়নকৃত ‘গুরুতর আহত’ মর্মে চিকিৎসা সনদ।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র।
অনুদানের অর্থ কবে পাওয়া যাবে
ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ পাঠানো হবে।
এ ছাড়া নির্বাচিত আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অনুদান অনুমোদনের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্ত
চিকিৎসা অনুদান পেতে আবেদনকারীকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
দুর্ঘটনা এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছরের মধ্যে অথবা সর্বোচ্চ এক বছরের ব্যবধানে হতে হবে।
একজন শিক্ষার্থী চিকিৎসাজনিত একই মেয়াদে শুধু একবার আবেদন করতে পারবেন।
পূর্ববর্তী শ্রেণি বা পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। অথবা এসএসসি ও এইচএসসি (বা সমমান) পরীক্ষায় জিপিএ ৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫০ এবং স্নাতক পর্যায়ে জিপিএ ৪-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ অর্জনের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে।
তবে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানেরা অফিসপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে আবেদন করতে পারবেন।
দুর্ঘটনার প্রমাণ হিসেবে জেলা সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যয়নকৃত গুরুতর আহতের চিকিৎসা সনদের স্পষ্ট কপি আপলোড করতে হবে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
অনলাইনে আবেদন করার সময় আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত তথ্য ও কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে—
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র
জন্মনিবন্ধন সনদ
মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র
শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক ছবি
শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর
শিক্ষার্থী অথবা তাঁর মা-বাবার সচল অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্য
ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ হিসেবে চেকের পাতা অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
আবেদনের সময় শিক্ষার্থী অথবা তাঁর মা-বাবার নামে থাকা নিজস্ব সচল অনলাইন ব্যাংক হিসাবের নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
হিসাবের প্রমাণ হিসেবে চেকের পাতা অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপলোড করা বাধ্যতামূলক। তবে মা-বাবা না থাকলে বৈধ অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব গ্রহণযোগ্য হবে।
ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার কারণে অনুদানের অর্থ ফেরত (বাউন্সড) হলে পুনরায় অর্থ পাঠানো হবে না। তাই আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রদান করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় না থাকলে করণীয়
আবেদন করার সময় কোনো শিক্ষার্থী যদি অনলাইন তালিকায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে না পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আবেদন পাঠাতে হবে।
এই আবেদন ডাকযোগে অথবা ad.stipend@pmeat.gov.bd ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের এই চিকিৎসা অনুদান কর্মসূচি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।