ঢাকা

আরও ৫ সংসদীয় কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ভাগ্যে নেই সভাপতির পদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদে আরও পাঁচটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে নতুন গঠিত পাঁচটি কমিটির কোনোটির সভাপতির পদেই বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে রাখা হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত গঠিত ৪৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মধ্যে বিরোধী দল থেকে সভাপতি করা হয়েছে শুধু সরকারি হিসাব কমিটিতে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পাঁচটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং দুটি কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে ভোটে এসব প্রস্তাব পাস হয়।

নতুন পাঁচ কমিটি গঠনের ফলে জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫টি স্থায়ী কমিটি গঠিত হলো। সংসদে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক—সব মিলিয়ে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৬টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এবং ৯টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নতুন পাঁচ কমিটির নেতৃত্বে সরকারি দলের সদস্যরা

মঙ্গলবার গঠিত পাঁচটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের রাখা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানকে। তিনি একই সঙ্গে বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব-সম্পর্কিত কমিটিরও সভাপতি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম।

নতুন পাঁচ কমিটির সভাপতির তালিকায় বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য না থাকায় সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের সদস্য করা নিয়ে স্পিকারের আপত্তি

এদিকে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের সদস্য করা নিয়ে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য চিফ হুইপকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার পাঁচটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, সংসদীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণত কমিটির সভাপতি একজন বেসরকারি সদস্য হন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকেন।

স্পিকার বলেন, কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী, হুইপসহ উচ্চপদস্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সদস্য করা হয়েছে। এতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সংসদের প্রচলিত রীতি ও কমিটি গঠনের মূল চেতনা অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেন স্পিকার।

তিনি চিফ হুইপকে বলেন, ‘একটি বিষয় আমি লক্ষ করেছি যে এই কমিটিগুলো যখন গঠন করা হয়, স্পিরিট হলো কমিটির চেয়ারম্যান বেসরকারি সদস্য হবেন এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে যাঁরা আছেন তাঁরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। কিন্তু আমি লক্ষ করেছি যে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সদস্যপদে প্রতিমন্ত্রী, হুইপ—এ ধরনের উচ্চপদস্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু স্পিরিট হলো এবং সংসদের প্রথা হলো বেসরকারি সদস্যরাই সদস্যপদে থাকবেন এবং মন্ত্রীও একজন সদস্য থাকবেন। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে কমিটি গঠনকালে বিবেচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নিজ মন্ত্রণালয়ের বাইরে প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করার বিষয়েও প্রশ্ন

বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এ বিষয়টিও সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রচলিত রীতির সঙ্গে কিছুটা ব্যতিক্রমী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ওই মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। অন্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে তাঁদের সদস্য করার রীতি সাধারণত অনুসরণ করা হয় না।

এ ছাড়া সরকারদলীয় চারজন হুইপকে চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। ফলে সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বে সরকারি দলের প্রভাব এবং বিরোধী দলের সভাপতির পদে সীমিত উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে গঠিত ৪৫টি

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে স্থায়ী কমিটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংসদে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি থাকার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি।

মঙ্গলবারের পাঁচটি কমিটি গঠনের পর এখন পর্যন্ত মোট ৪৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এবং ৯টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি।

এখনো পাঁচটি স্থায়ী কমিটি গঠন বাকি রয়েছে। ফলে সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তবে ইতিমধ্যে গঠিত কমিটিগুলোর নেতৃত্বে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সীমিত। এখন পর্যন্ত শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা, নীতিগত বিষয় পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুপারিশ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ সংসদীয় জবাবদিহির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে বিবেচিত।

এ কারণে কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব কতটা থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ থাকে। নতুন করে গঠিত পাঁচ কমিটির কোনো একটিতেও বিরোধী দলের সদস্যকে সভাপতি না করায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে স্পিকারের বক্তব্যে কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদের প্রচলিত রীতি অনুসরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের কোন কমিটিতে কীভাবে সদস্য করা হবে, তা নিয়ে ভবিষ্যৎ কমিটি গঠনের সময় আরও সতর্কতা অবলম্বনের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পিকার।

মঙ্গলবারের অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পাঁচটি স্থায়ী কমিটি এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সংসদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে। বাকি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি গঠনের পর জাতীয় সংসদের ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স