র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাবসংবলিত বিল নিয়ে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আটটি বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিলটি দ্রুত পাস না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে এর বিভিন্ন দিক আরও পর্যালোচনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংশোধিত আকারে সংসদে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়। আগামীকাল বুধবার কমিটির পক্ষ থেকে বিলটি নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার বিলটি সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের দুজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকেই বিলের বিভিন্ন বিষয়ে লিখিতভাবে ভিন্নমত তুলে ধরা হয়েছে।
‘নাম বদলে র্যাবই রাখা হচ্ছে’
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রমের বড় অংশই অপরিবর্তিত থাকছে। তাঁর মতে, নাম পরিবর্তন করে কার্যত আগের র্যাবকেই রেখে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিলটির সাত থেকে আটটি বিষয়ে তাঁরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তবে কোন কোন বিষয়ে ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
কমিটির বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি দ্রুত পাস না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনের ক্ষেত্রে শুধু নাম পরিবর্তন হচ্ছে কি না, নাকি বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা, জবাবদিহি ও তদারকি ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আসছে—তা সরকারকে স্পষ্টভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন
বিরোধী দলের সদস্যরা তাঁদের ভিন্নমতে র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তাঁদের বক্তব্য, র্যাব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নতুন বাহিনী হিসেবে এসআরবি গঠন করা হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বাভাবিকভাবেই এর কাঠামো, আইন, তদারকি ব্যবস্থা এবং কার্যক্রম র্যাবের তুলনায় কতটা আলাদা—তা পর্যবেক্ষণ করবে।
তাঁদের মতে, এসআরবির আইন ও বিধিবিধানে প্রকৃত পরিবর্তন নিশ্চিত না হলে শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বাহিনীটির বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যমান উদ্বেগ দূর করা কঠিন হবে।
অভিযোগ প্রতিকার কমিটি নিয়ে আপত্তি
বিরোধী দলের অন্যতম আপত্তি বিলের ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান নিয়ে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এই কমিটির সভাপতি ও সদস্যসচিব হিসেবে এসআরবির কর্মকর্তাদের রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের মতে, এতে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এসআরবির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের তদন্ত ও প্রতিকার প্রক্রিয়ায় একই বাহিনীর কর্মকর্তারা যুক্ত থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ কারণে তাঁরা অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বাহিনীর বাইরে থেকে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে এই কমিটির নেতৃত্বে রাখলে অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকার ব্যবস্থায় জনআস্থা বাড়বে।
আটক ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণে বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব
এসআরবি কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে কোথায় এবং কতক্ষণ আটক রাখতে পারবে—বিলের সংশ্লিষ্ট বিধানে বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্ট নয় বলেও আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ করা এবং সেখানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে রাখা হয়নি বলে তাঁরা মনে করছেন।
এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে, এসআরবির প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের অবস্থান সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আটক ব্যক্তির নাম, আটকের সময়, স্থান, আটকের আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিচয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং পরে কোন থানায় তাঁকে হস্তান্তর করা হয়েছে—এসব তথ্য একটি নির্দিষ্ট রেজিস্টারে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের মতে, এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করলে আটক ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কার্যক্রমের মাসিক বিবরণী দেওয়ার প্রস্তাব
বিলের আরেকটি ধারার বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রস্তাব করেছেন, এসআরবি যেসব জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেসব এলাকায় বাহিনীটির কার্যক্রমের মাসিক বিবরণী দিতে হবে।
তাঁদের মতে, বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত কার্যবিবরণী ও তদারকি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
কমিটির পর্যবেক্ষণ
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বৈঠকে বলা হয়, অতীতে র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনী বিলুপ্ত না করে ওই বাহিনীর দক্ষ জনবল এবং বিদ্যমান সরঞ্জাম যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, পেশাদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন বৈঠকে অংশ নেন।
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের প্রেক্ষাপট
২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধনের মাধ্যমে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অভিযান ও কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে ওই অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত বিধান বাদ দিয়ে র্যাব বিলুপ্ত এবং পুলিশের অধীনে পৃথক ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাগজে র্যাব বিলুপ্ত করা হলেও বাহিনীটির প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার বড় একটি অংশ এসআরবিতে বহাল থাকছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, র্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, নথিপত্র ও অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। র্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।
এ ছাড়া র্যাবের বিদ্যমান দায়দায়িত্ব, চুক্তি এবং বাহিনীর পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান মামলাগুলোও এসআরবির নামে পরিচালিত হবে। ফলে বাহিনীটির নাম ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও এর বিদ্যমান জনবল, সম্পদ ও কার্যক্রমের একটি বড় অংশ নতুন ইউনিটের মাধ্যমে অব্যাহত থাকার সুযোগ থাকছে।
র্যাব নিয়ে দীর্ঘদিনের মানবাধিকার উদ্বেগ
র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এ কারণে নতুন এসআরবি গঠনের ক্ষেত্রে শুধু সাংগঠনিক কাঠামো নয়, বাহিনীর জবাবদিহি, মানবাধিকার সুরক্ষা, অভিযোগ তদন্ত, আটক ব্যবস্থাপনা এবং বেসামরিক তদারকির বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের সদস্যদের নোট অব ডিসেন্টে এসব বিষয়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএমইউর ৮ অডিট আপত্তি নিয়ে সরকারি হিসাব কমিটিতে আলোচনা
এদিকে আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, আলোচিত আটটি অডিট আপত্তির মধ্যে কয়েকটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অন্য কিছু আপত্তি আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওই কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
পরীক্ষার আয়ে ৩০ শতাংশ কমিশন নিয়ে প্রশ্ন
সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, অডিট আপত্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা-সংক্রান্ত আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি বিষয় উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী লাভের ওপর বিশেষজ্ঞদের ৩০ শতাংশ কমিশন পাওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে লাভের পরিবর্তে আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি বলেন, বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত কমিটির সরেজমিন পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বড় অনিয়মকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ
বৈঠকে বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে তালিকা দেওয়ার জন্য মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে (সিএজি) নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি হিসাব কমিটি।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম যেসব জায়গায় রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে সরকারি হিসাব কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মাহাবুবুর রহমান, হাফিজ ইব্রাহীম, এস কে আজিজুল বারী, মনজুরুল ইসলাম, ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।