ঢাকা

ইরান যুদ্ধে সেনাদের অনিচ্ছা, সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে অনেকেই ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এই বিষয় নিয়ে কাজ করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অন কনশিয়েনশস অ্যান্ড ওয়ার’, যার ফোন ক্রমাগত বেজে চলেছে। সেনারা ফোন করে জানিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে রাজি নন।

সেনাদের আপত্তি ও কনশিয়েনশস অবজেক্টরস

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রাইজনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “ফোন বেজেই চলেছে। সরকারের তরফে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সেনা ইউনিটকে মোতায়েনের জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, সেনাদের মধ্যে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এক সেনা সদস্য কনশিয়েনশস অবজেক্টর হিসেবে আবেদন করতে চাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার ইউনিটের মধ্যে ইরান যুদ্ধে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে এবং তিনি সবাইকে তাদের ফোন নম্বর দেবেন। বিশেষত, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা এবং ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় সেনারা চরম আপত্তি জানিয়েছেন।

ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ

মিনাব শহরের ‘শাজারে তাইয়েবেহ’ বালিকা বিদ্যালয় ইরানের হরমুজগান প্রদেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানে। এ হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হন, বেশির ভাগই মেয়েশিশু। মিডলইস্ট আই, নিউইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে দুবার হামলা চালানো হয়। প্রথমবারের পর আশ্রয়ে থাকা শিক্ষার্থী ও উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের হামলা করা হয়।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলের পাশের নৌঘাঁটিতে আঘাত হানছে। ট্রাম্প প্রশাসন এ হামলার বিষয়ে সরাসরি জবাব দেয়নি; বরং ট্রাম্প দাবি করেছেন, স্কুলে হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানো উচিত, যদিও প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

সেনা মোতায়েন ও প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি

মার্কিন সেনাবাহিনী সম্প্রতি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে। এয়ারবোর্ন সেনারা মূলত স্থলযুদ্ধে বিশেষজ্ঞ এবং শত্রু সীমায় দ্রুত প্রবেশের সক্ষম।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (ড্রাফট) চালু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। ইতিহাসে শেষবার ১৯৭২ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের মধ্যে এই ধরনের আপত্তি এবং কনশিয়েনশস অবজেক্টরসের বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতি ও কৌশলকে জটিল করে তুলতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স