ঢাকা

বিভ্রান্তকারীদের অপতৎপরতা নজরে রাখুন, জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার এবং তাঁদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় রেখে নজরদারিতে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে—এমন কোনো প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা ও বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী রয়েছে। তাঁদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারা অতীতে কী করেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে তারা কী করছে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে অতীতের মতো তাঁদের সমুচিত জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু, পাদরিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে সম্মানির অর্থ প্রদান করা হয়। অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তার চেক। এ ছাড়া একজন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অতীত ভূমিকা বিবেচনার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংকটের সময়ে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কারা অতীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে কী ভূমিকা রেখেছে, তা বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনেকের রাজপথে কোনো ভূমিকা ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর নেতা-কর্মীরাই গুম, খুন, নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিসরে ‘সংস্কার’ নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১৭ বছর রাজপথে অনুপস্থিত থাকা কিছু ব্যক্তি এখন সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ২০২২ সালেই প্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের একটি রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। এরও আগে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে সংস্কারের প্রথম প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ জন্য জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বা প্রচারণার কারণে যেন মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়; জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে হবে।

ফ্যামিলি কার্ডে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্য

অনুষ্ঠানে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী। তাঁদের বাদ দিয়ে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নারীদের শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তাঁর মতে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু একটি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ায় না; এর প্রভাব পড়ে পুরো সমাজ ও অর্থনীতির ওপর।

আত্মনির্ভরশীল নাগরিক গড়ার ওপর জোর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। নাগরিকদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারলে বড় বড় স্লোগান বা উন্নয়ন পরিকল্পনার কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই হতে হবে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মানুষকে সক্ষম করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অন্য কোনো দেশের মডেল অনুকরণ না করে বাংলাদেশকে নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাবে।

কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফের কথা

কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এই লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য নেওয়া ঋণসংক্রান্ত সুবিধার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

কৃষির আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেচ ও পানিসংকট দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য আগামীতে দেশব্যাপী ২৫০ কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর মতে, কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শুধু কৃষিঋণ বা আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; সেচব্যবস্থা, পানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষকের বাজারসুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।

তরুণদের কর্মসংস্থানে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাঁর মতে, শুধু চাকরির অপেক্ষায় থাকা নয়, তরুণদের উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিল্পায়ন বাড়লে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে।

সনদের বাইরে পরিপূর্ণ মানুষ গড়ার পরিকল্পনা

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। তাঁদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ভাষাগত দক্ষতায় পারদর্শী করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষার সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, দায়িত্বশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শিশু-কিশোরদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য সামাজিক সহায়তা

অনুষ্ঠানে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের দিকনির্দেশক হিসেবে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের আত্মনির্ভরশীল রাখতে বিশেষ সামাজিক ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে অসচ্ছল ব্যক্তি, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়ার পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো—এমন বক্তব্যও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

অবসর ভাতা নিয়ে সরকারের দাবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসর ভাতা নিয়ে যে জটিলতা ও ভোগান্তি ছিল, তা নিরসনে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তাকে সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচনা করার কথা জানান তিনি।

‘মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই লক্ষ্য’

বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা—এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষায় সহায়তা, কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো এবং কলকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তাঁদের রাজনীতির উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং দেশের সাধারণ মানুষ এই উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ সাক্ষী।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য কাজ করা এবং মানুষের জন্য কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব।

স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের বার্তা

কিশোরগঞ্জের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান ছিল, অন্যদিকে ছিল সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর জোর।

বিভ্রান্তি ও গুজব থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতীত ভূমিকা বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীনসহ অন্যরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স