বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘জাপান/বিশ্বব্যাংক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি’ (JJ/WBGSP)–এর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এ কর্মসূচি বিশ্বের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ৪৪টি প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে।
এই বৃত্তির লক্ষ্য—উন্নয়নশীল দেশের মেধাবী ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের উচ্চতর শিক্ষা প্রদান করে নিজ নিজ দেশের নীতিনির্ধারণ, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক উন্নয়নে নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ
অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও জাপানে অবস্থিত। পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে রয়েছে—
-
অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা
-
করনীতি
-
অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা
-
উন্নয়ন অর্থনীতি
-
জননীতি ও প্রশাসন
-
টেকসই উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট শাখা
প্রোগ্রামগুলো উন্নয়ন-সংক্রান্ত বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও গবেষণায় জোর দেয়, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
বৃত্তির সুবিধা
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন—
-
সম্পূর্ণ টিউশন ফি
-
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মৌলিক স্বাস্থ্যবিমা
-
দেশভেদে নির্ধারিত মাসিক জীবিকা ভাতা
-
যাওয়া-আসার ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়া
-
প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ৬০০ মার্কিন ডলার ভ্রমণভাতা
অর্থাৎ, শিক্ষার্থীদের প্রায় সব একাডেমিক ও মৌলিক জীবনযাপনের ব্যয় এই বৃত্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আবেদনের যোগ্যতা
এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের—
-
বিশ্বব্যাংকের সদস্য কোনো উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে
-
কোনো উন্নত দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না
-
আবেদনের শেষ তারিখের অন্তত তিন বছর আগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে
-
গত ছয় বছরের মধ্যে অন্তত তিন বছর পূর্ণকালীন উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে
-
আবেদনকালে উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে
-
আগে এই স্কলারশিপ প্রত্যাখ্যান বা অসম্পূর্ণ রেখে থাকলে আবেদন করা যাবে না
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আবেদনকারীদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার অঙ্গীকারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া: সরাসরি নয়
এই বৃত্তির আবেদন লিংক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়।
প্রথমে প্রার্থীদের নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে অর্থায়ন ছাড়া ভর্তি হতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগ্য প্রার্থীদের শর্টলিস্ট করে স্কলারশিপের আবেদন লিংক পাঠাবে।
অর্থাৎ, সরাসরি স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগ নেই—ভর্তিই প্রথম ধাপ।
বাছাই প্রক্রিয়া
যোগ্য আবেদনগুলো দুজন স্বাধীন মূল্যায়নকারী ১ থেকে ১০ স্কেলে নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করবেন। চারটি মানদণ্ডে নম্বর বণ্টন হবে—
১. পেশাগত অভিজ্ঞতা — ৩০%
২. পেশাগত সুপারিশপত্র — ৩০%
৩. নিজ দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকার — ৩০%
৪. শিক্ষাগত পটভূমি — ১০%
এই কাঠামো থেকে বোঝা যায়, একাডেমিক ফলাফলের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন-মনস্কতা বেশি গুরুত্ব পায়।
আবেদনের সময়সূচি
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হয়—
-
প্রথম ধাপ: ১৫ জানুয়ারি – ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সমাপ্ত)
-
দ্বিতীয় ধাপ: ৩০ মার্চ – ২৯ মে ২০২৬
বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের আবেদন প্রক্রিয়া চলমান।
উন্নয়ন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য
এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশের মধ্যম-স্তরের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিয়ে আসছে। স্কলারশিপপ্রাপ্তদের প্রত্যাশা করা হয়, পড়াশোনা শেষে তাঁরা নিজ দেশে ফিরে সরকারি, বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করবেন।
বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের এই যৌথ উদ্যোগ কেবল শিক্ষাবৃত্তি নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশের নীতি ও প্রশাসনে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।