ঢাকা

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে জোর, মস্কো বৈঠকে সহযোগিতার নতুন অঙ্গীকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বাংলাদেশ ও রাশিয়া জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। মস্কোতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই খলিলুর রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। সফর উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রচেষ্টায় মস্কো পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় যে আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংলাপ আরও শক্তিশালী হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা রুশ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পর পুনর্গঠন পর্বে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতার বিষয়টিও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন দুই দেশের অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের মন্ত্রীরা বহুপক্ষীয় ফোরামে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, জ্বালানি, কারিগরি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স