ঢাকা

সরকার ও বিরোধী দল নিয়ে মঞ্জুর কটাক্ষ, ‘স্বার্থের জায়গায় নেই ভিন্নতা’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমালোচনা করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার ও সুশাসনের আলোচনা থেকে সরে গিয়ে উভয় পক্ষ আবার পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের সুবিধাসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে অবস্থান নিচ্ছে।

শনিবার রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এবি পার্টির রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সংসদে সংস্কার, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরোনো কায়দায় একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা–ছোড়াছুড়ি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার ফুলঝুরি চলছে। আবার উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের অফিস ও গাড়ি সুবিধার মতো বিষয়ে আলোচনায় উভয় পক্ষ একজোট হচ্ছে।’

পরিবর্তনের ছাপ নিয়ে প্রশ্ন

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর জনগণ রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সংস্কৃতি দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায় ছাড়া অন্যদের কর্মকাণ্ডে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন তেমন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকার, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে আগের রাজনৈতিক ভাষা ও আচরণেরই পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সীমান্তে ‘পুশ ইনের’ বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘পুশ ইনের’ বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যৌথ প্রতিরোধের প্রশংসা করেন মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ঐক্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে দল–মত নির্বিশেষে এ বিষয়ে সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

বাজেট নিয়ে সমালোচনা

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে সরকার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

মজিবুর রহমান বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় সংকোচন নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, প্রটোকল কমানো, সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা এড়িয়ে চলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য, আমলাতন্ত্র ও দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে এসব নীতি অনুসরণের যথেষ্ট উদাহরণ দেখা যাচ্ছে না।

রংপুর বিভাগে দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা

প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব মিনার এবং এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।

এবি পার্টির রংপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবদুর রউফের সভাপতিত্বে এবং রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে দলের গত পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ আগামী দিনে রংপুর বিভাগে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন এবি পার্টির দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, রংপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল আলম, নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক মাওলানা লিয়াকত আলী, কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, রংপুর জেলার সদস্যসচিব এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলার সদস্যসচিব মোমিন সরকার, লালমনিরহাট জেলার সদস্যসচিব আশরাফুল আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স