ঢাকা

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইউরোপীয় নেতারা: ট্রাম্পকে পাল্টা বার্তা ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ইউরোপীয় নেতারা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সাহায্য চাইলেও ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থান

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি।” তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, জার্মানি কূটনৈতিক সমাধান চাইছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, তবে কোনো নতুন অভিযান নেই।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে বলেছেন, ব্রিটিশ স্বার্থে দেশ যুদ্ধের জটিলতায় না পড়বে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন, তবে যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেওয়া হবে না। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিওও জানিয়েছেন, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে যুক্ত নয়।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইউরোপীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। ইউরোপীয় নেতারা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের ব্যয়বহুল ভুলও মনে রেখেছেন, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জেদ এবং ভুল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে সংঘটিত হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষাপ্রধান নিক কার্টার বলেছেন, ন্যাটো একটি রক্ষণাত্মক জোট, যা কোনো দেশের ইচ্ছায় যুদ্ধ চালানোর জন্য তৈরি হয়নি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কি নিশ্চিত করেছেন, পোল্যান্ডও ইরানের বিরুদ্ধে বাহিনী পাঠাবে না।

ট্রাম্পের চাপ ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের হুমকি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে সহযোগিতা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতি হবে। তবে ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।” তাঁরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছেন, কিন্তু সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দিচ্ছেন না।

ইতালির একটি যুদ্ধজাহাজ ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে মাঠে থাকলেও কার্যক্রম শুধুমাত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সীমাবদ্ধ। একইভাবে পোল্যান্ড ও অন্যান্য দেশও সামরিক ভূমিকা নেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

বিশ্লেষণ

ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থান স্পষ্ট: তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পছন্দের যুদ্ধে জড়াতে রাজি নন। তাদের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পথে সমাধান বের করা। ট্রাম্পের চাপ ও হুমকির মুখেও ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা ইরান যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স