ঢাকা

প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে অবস্থান পরিষ্কার করলেন জামায়াতের আমির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আলাদাভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাঁদের কোনো নেতিবাচক অবস্থান নেই; তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের আপত্তি রয়েছে। জাতির আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় সরকারি দল এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউস–এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, দেশে “ফ্যাসিবাদ পুরোপুরি বিদায় নেয়নি; একটি বড় অংশ সরে গেলেও তার কালো ছায়া এখনো রয়ে গেছে।” গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্র ও সমাজ কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সমাজের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার চর্চা অব্যাহত রয়েছে; কথার সঙ্গে কাজের অমিল থাকায় রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

গণভোট ও সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গ

গণভোটে বিপুলসংখ্যক ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন—এ দাবি করে জামায়াতের আমির বলেন, সেই রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি দলের সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি সংসদে নোটিশ আকারে উত্থাপন এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিকভাবে তোলার ঘোষণা দেন।

বিরোধী দলের ভূমিকা

বিরোধী রাজনীতির কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের দুটি প্ল্যাটফর্ম—সংসদের ভেতর ও রাজপথ। সংসদে গঠনমূলক ভূমিকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে রাজপথেও কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে রমজান মাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাঠের কর্মসূচি থেকে বিরত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা ও ঈদযাত্রা

গণমাধ্যমকে “জাতির দর্পণ” আখ্যা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের অসংগতি ও দুর্নীতি তুলে ধরায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ; তবে আগের মতো বিবেকের প্রতিধ্বনি সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রকাশ্যে গুলি, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দেন এবং মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের অর্থ কোনো দলের নয়; সরকার কেবল ব্যবস্থাপক। এ বিষয়ে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

বৈশ্বিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে সরকার উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল তা বিবেচনায় নেবে।

স্থানীয় সরকার ও সিলেট প্রসঙ্গ

সর্বস্তরে গণতন্ত্রের চর্চা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রয়োজন বলে মত দেন জামায়াতের আমির। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট উন্নয়নবঞ্চিত—এ দাবি তুলে তিনি বলেন, ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিতের দাবিতে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন; তবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।

মতবিনিময় সভার শুরুতে দেশবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স