ঢাকা

জুলাই সনদ কার্যকরে রূপরেখা চাই, সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বৈঠকে তিনি মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, প্রস্তাবটি নিয়ে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে পরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। রাত সোয়া আটটার দিকে সংসদের বৈঠক মুলতবি হয়।

প্রেক্ষাপট: গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় চলতি জাতীয় সংসদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।

এ ছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি বলেও সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

এর আগে, গত রোববার এ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তাঁর প্রস্তাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়টি আলোচনায় তোলার কথা বলা হয়। ওই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে এবং মঙ্গলবার সংসদে তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

‘একই বিষয় নয়’—আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রস্তাব উত্থাপনের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, গত ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতার একটি নোটিশ গৃহীত হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, একই বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করা যায় না। তাই নতুন নোটিশটি মুলতবি প্রস্তাব আকারে গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

তবে এ বক্তব্যের পরপরই আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, দুটি প্রস্তাব অভিন্ন নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে কেন্দ্র করে, আর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের প্রস্তাবটি ছিল পুরো জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে। তাই দুটি আলাদাভাবে আলোচনার দাবি রাখে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “কালকের প্রস্তাবটি ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর। আজকের প্রস্তাবটি জুলাই সনদের ওপর—কী প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিয়ে। দুটি বিষয় পৃথক।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নোটিশটি তিনি পাননি। তবে আইনমন্ত্রী যে পার্থক্যের কথা বলেছেন, তা বিবেচনায় নিলে দুটি প্রস্তাব আলাদা বিষয়বস্তুর। তাঁর মতে, স্পিকার যদি মনে করেন যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ একটি স্বতন্ত্র আলোচনার দাবি রাখে, তাহলে সেটির জন্য পৃথক দিন নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকল

বিতর্ক ও মতপার্থক্যের মধ্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শেষ পর্যন্ত জানান, নোটিশটি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে বৈঠক মুলতবি হওয়ার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

ফলে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে সংসদে পৃথক আলোচনা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং সংসদের রুলিংয়ের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স