যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, পাশাপাশি দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন,
“আগামী দু–তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের সেই প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।”
তবে এক মাস ধরে চলা ব্যয়বহুল এ যুদ্ধের সমাপ্তি সম্পর্কে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি।
জ্বালানি ও অর্থনীতিতে প্রভাব
ট্রাম্পের হুমকির সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ থাকায় তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটি ব্যারেলের দাম বেড়ে ১০৮ থেকে ১০৯ ডলার হয়েছে। কংগ্রেসম্যান জিম হাইমস বলেন,
“ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে পাঁচ ডলার বেড়ে গেছে।”
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য লয়েড ডগেট বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই বলার ট্রাম্পের দাবি সবচেয়ে বড় মিথ্যা।”
ডেমোক্র্যাট নেতাদের তীব্র সমালোচনা
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে নিন্দনীয়, ভয়াবহ ও অশুভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার লিখেছেন,
“ট্রাম্প লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন এবং সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি উদাসীন।”
ক্রিস ভ্যান মন্তব্য করেছেন,
“দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমরা জয়ী হয়েছি। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিথ্যা বলেছিলেন। এই বিভ্রান্ত মানুষটি দেশ ও বিশ্বের জন্য চরম বিপদ।”
কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি বলেন,
“৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুমকি নিন্দনীয়, ভয়াবহ ও অশুভ।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনগত দিক
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ট্রাম্পের মন্তব্যকে মুসলিমবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছে। তারা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।
বিশ্বজনীন আইন অনুযায়ী, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
যুদ্ধ সমাপ্তির প্রচেষ্টা
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য তিনবার সময়সীমা দিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। যদি এর মধ্যে ইরান যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তবে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানোর হুমকি পুনরায় দিয়েছেন।
বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের ভাষণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তীব্র বিতর্কিত।
ডেমোক্র্যাট নেতারা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপদ তৈরি করতে পারে।
জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে, যা সাধারণ নাগরিকদের জীবনে সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধী দলের সমালোচনা দিন দিন তীব্র হচ্ছে।