ঢাকা

‘পতিত স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি’—সরকারকে ঘিরে ইসলামী আন্দোলনের কড়া সমালোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সংবিধানে বিদ্যমান স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো রোধ ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি অভিযোগ করেছে, এ ধরনের উদ্যোগ পতিত স্বৈরাচারের পদাঙ্ক অনুসরণের সামিল।

বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সংবিধানে স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করতে এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

তার অভিযোগ, বিএনপি এখন এমন সব অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের সুপারিশ করছে, যা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে। এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গ

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা সংহত হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে। এবারের গণভোট সম্পর্কিত সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন “অতিসাংবিধানিকতা” দেখিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করছে। তার ভাষ্য, এটি রাজনৈতিক অবস্থানের অসঙ্গতি নির্দেশ করে।

মানবাধিকার ও দুর্নীতি দমন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ

বিবৃতিতে মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দলটির দাবি, এসব অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইসলামী আন্দোলনের মতে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাই সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ সেই লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

সরকারের প্রতি আহ্বান

বিবৃতিতে সরকারকে উদ্দেশ করে বলা হয়, বিএনপিও অতীতে স্বৈরাচারের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ফলে স্বৈরতন্ত্র বিলোপে গৃহীত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দলটি অবিলম্বে স্বৈরতন্ত্রবিরোধী অধ্যাদেশগুলো দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবিধানিক সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্নমত প্রকাশ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতি রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধন–সংক্রান্ত বিতর্ক ভবিষ্যৎ নির্বাচন, গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে বড় ধরনের রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স