ঢাকা

রাষ্ট্র সংস্কারের পথ বাধাগ্রস্ত করলে জনগণ আবার আন্দোলনে নামবে: হাসনাত কাইয়ূম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাষ্ট্র সংস্কার কোনো সাংবিধানিক প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ। সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যাহত করলে জনগণ পুনরায় রাস্তায় নামবে—এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন হাসনাত কাইয়ূম।

শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সংবিধানের ভেতরে সংরক্ষিত ধারণা অনুসারে সংস্কার করা সম্ভব নয়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে উদ্যোগে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি করলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে।”

জাতীয় সংসদের সরকারি দলকে সতর্কবার্তা

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যেভাবে সংবিধানের দোহাই দিতেন, সেভাবেই আজকের সরকারি দলও সংবিধান মেনে সংস্কারের কথা বলছে। কিন্তু জনগণ সংবিধান সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল।”

তিনি স্মরণ করান, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছিল নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিকভাবে সংস্কার করা।

সংবিধান সংস্কার বনাম সংবিধান সংশোধন

হাসনাত কাইয়ূম স্পষ্ট করেন, “সংবিধান সংশোধনের নামে রাজনৈতিক সংস্কারের চেতনা বিকৃত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কারের ধারণা কোনো সাংবিধানিক প্রকল্প নয়, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ। রাজনৈতিক দলগুলো প্রকৃত পরিবর্তনের বদলে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পুরোনো রাজনীতিকেই পুনর্বাসিত করতে চাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “‘৭১, ’৯০-এর মতো ’২৪-এর বিজয়ও এখন হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বদলে আইনি জটিলতার আড়ালে পুরোনো ব্যবস্থাকে রক্ষা করছে। এই প্রতারণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ–অভ্যুত্থানের মূল চেতনা পুনরুদ্ধার করা এবং টেকসই রাজনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন জনগণের প্রধান দায়িত্ব।”

সভার অন্যান্য বক্তব্য

আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন। তিনি বলেন, “গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংবিধান সংস্কারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সংসদে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হাসিঠাট্টা করা হচ্ছে, এবং গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি লামিয়া ইসলাম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স