ঢাকা

২০ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর পথে: অন্তর্বর্তী সরকারের আইনসমূহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাই করে এ সুপারিশ করেছে। ১০ এপ্রিলের পর এই অধ্যাদেশগুলো কার্যকর হবে না।

বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি হলো:

জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬

জামায়াতের তিন সংসদ সদস্য এই চারটি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের পক্ষে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এগুলো বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত ও ক্ষমতাবৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিল আকারে না উত্থাপনের সুপারিশ করা ১৬টি অধ্যাদেশ

কমিটি পরামর্শ দিয়েছে যে, গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন করা হবে না। তবে পরবর্তী সময়ে অধিক শক্তিশালীভাবে নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তারা মনে করছেন, কিছু অধ্যাদেশ—যেমন গণভোট ও মানবাধিকার সংক্রান্ত—জাতীয় নিরাপত্তা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলের যুক্তি, সরকারের অনুমতি ছাড়া তদন্ত বাধাপ্রাপ্ত হলে ইতিহাসে গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়নি।

১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে

সংশোধিত আকারে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন)
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন)
ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ
সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ
কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন)
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ
ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন)
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন)

সংশোধন সম্পর্কিত বিস্তারিত সুপারিশ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। তবে কমিশন ও পুলিশের মতো সংস্থাকে আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য এতে অন্তর্ভুক্ত।

৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে তোলা হবে

হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কিছু বিশেষ অধ্যাদেশ
বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ
জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ
সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ

এগুলোর মধ্যে বিরোধী দলের কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে প্রভাব

বিশেষ কমিটির সুপারিশে যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে হোঁচট পড়বে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আদালত ও বিচার বিভাগকে স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী করার দিক থেকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

রাজস্ব নীতি, দুর্নীতি দমন, মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন ও মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স