ঢাকা

দুই দফা কর্মসূচি দিল খেলাফত মজলিস: ১০ এপ্রিল বিক্ষোভ, ২৪ এপ্রিল সমাবেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ এপ্রিল সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ২৪ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৈঠক পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ।

‘গণভোটের রায় অমান্য করছে সরকার’

সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন, সেই সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, গণভোটে জনগণ নির্দিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট রায় দেওয়ার পরও সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোটের ফল উপেক্ষা করা হচ্ছে। “পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে সরকার নিজ জনগণের সুস্পষ্ট রায় এভাবে অমান্য করেছে—এমন নজির আমাদের জানা নেই,”—দাবি করেন তিনি।

অধ্যাদেশ বাতিল–সংশোধন নিয়ে সমালোচনা

মামুনুল হক অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ বর্তমানে বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব অধ্যাদেশ জারির সময় বিএনপি কোনো প্রকাশ্য বিরোধিতা করেনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে স্বাগত জানিয়েছিল এবং কিছু অধ্যাদেশ তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই জারি হয়েছিল।

তিনি বলেন, “এখন সেগুলো বাতিলের মাধ্যমে সরকার মূলত গণভোটের রায়কেই অমান্য করছে। এর ফলে দেশে একটি গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।”

ধারাবাহিক আন্দোলনের ইঙ্গিত

দলটির ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। পরবর্তী ধাপে ২৪ এপ্রিল ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

খেলাফত মজলিস নেতারা জানান, গণভোটের রায় কার্যকর এবং সংবিধান সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই পরিচালিত হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তারা।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আবদুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।

গণভোটের ফলাফল, সংবিধান সংস্কার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। খেলাফত মজলিসের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তাতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান—আগামী দিনগুলোতে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স