ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলন–এর প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছেড়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তবে তিনি দলটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।
তার স্থলে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও প্রবীণ কৃষক নেতা দেওয়ান আবদুর রশিদ (নীলু)কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান।
‘দল ও সরকার—দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে নয়’
সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাসান বলেন, দলীয় প্রধানের দায়িত্ব এবং সরকারের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একই সঙ্গে পালন না করার নীতিগত অবস্থান থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় প্রধানের ভূমিকা রাখা সাংগঠনিকভাবে উপযুক্ত নয়—এই বিবেচনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি নিজেও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকবেন এবং রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন জোনায়েদ সাকি। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
সরকারে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দলীয় পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল। শনিবারের ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান হলো।
দলের সাংগঠনিক পটভূমি
২০০২ সালের ২৯ আগস্ট কয়েকটি গণসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দলটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই সম্মেলনেই প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ, মনির উদ্দীনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, দীপক কুমার রায়, তরিকুল সুজন, জাহিদ সুজন, বেনু আক্তার, তাহসিন মাহমুদ ও আবু রায়হান খান উপস্থিত ছিলেন।
দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা রাখার নীতিগত অবস্থানের মধ্য দিয়ে গণসংহতি আন্দোলন সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জোট রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।