ঢাকা

লুইজিয়ানায় গুলি, নিহত শিশুদের বেশিরভাগই বন্দুকধারীর পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে এক হৃদয়বিদারক বন্দুক হামলায় আট শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের মধ্যে সাতজনই হামলাকারীর নিজের সন্তান।

রোববার ভোরে শ্রিভপোর্ট শহরের তিনটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ৩১ বছর বয়সী বন্দুকধারী শামার এলকিন্স ধারাবাহিকভাবে একাধিক স্থানে গিয়ে গুলি চালান, যা তারা ‘পারিবারিক সহিংসতা’ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করছে।

নিহতদের পরিচয় ও বয়স

ক্যাডো প্যারিশ করোনারের দপ্তর জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বয়স ছিল তিন থেকে ১১ বছরের মধ্যে। আটজনের মধ্যে তিনজন ছেলে ও পাঁচজন মেয়ে। তাদের মধ্যে সাতজন ছিল সহোদর, আর একজন আত্মীয়।

নিহত শিশুদের নাম হলো—জাইলা এলকিন্স (৩), শাইলা এলকিন্স (৫), কাইলা পিউ (৬), লায়লা পিউ (৭), মার্কেডন পিউ (১০), সারিয়াহ স্নো (১১), খেদারিয়ন স্নো (৬) এবং ব্রেলন স্নো (৫)।

হামলার বর্ণনা

শ্রিভপোর্ট পুলিশের কর্মকর্তা ক্রিস বোর্ডেলন জানান, হামলাকারী প্রথমে নিজের স্ত্রীকে গুলি করেন, যিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এরপর তিনি পাশের আরেকটি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। নিহত অষ্টম শিশুর মা—আরেকজন নারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর অবস্থাও গুরুতর।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার সময় কয়েকজন শিশু পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। এক পর্যায়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রাণ বাঁচাতে একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হয়; তার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে, তবে সে বেঁচে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হামলাকারীর পরিণতি

ঘটনার পর হামলাকারী একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শুরু করেছে অঙ্গরাজ্য পুলিশ।

অতীত ও পটভূমি

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আগ্নেয়াস্ত্র–সংক্রান্ত এক ঘটনায় শামার এলকিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় একটি স্কুলের কাছে তিনি গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

এছাড়া তিনি একসময় Louisiana Army National Guard–এ কর্মরত ছিলেন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

এ ঘটনাকে ২০২৪ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সহিংসতা ও বন্দুক ব্যবহার সংক্রান্ত ঘটনার পুনরাবৃত্তি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ট্র্যাজেডি প্রতিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স