ঢাকা

সংসদে মাইক বিভ্রাট, স্পিকার জানালেন ‘কলঙ্কজনক’ ঘটনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদে আবারও মাইক–বিভ্রাট দেখা দিয়েছে, যা রোববার বিকেলে সংসদ অধিবেশনকে অন্তত ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বারবার এ ধরনের বিভ্রাট ঘটানো জাতির জন্য কলঙ্কজনক।

চিফ হুইপের বক্তব্যে বিভ্রাট

মাগরিবের নামাজের আগে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে হঠাৎ মাইকে বিভ্রাট দেখা দেয়। এ সময় বিরোধী দল প্রতিবাদ করলেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল সমর্থন না দেওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন।

সরকার দল সমর্থন জানানোর মধ্যেই দুই পক্ষের হট্টগোলের কারণে চিফ হুইপের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না। স্পিকার তখন বলেন, “বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না, বসে পড়ুন।” পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে সংসদে উপস্থিত সদস্যরা স্পিকারের কথা শুনতেও পারছিলেন না।

স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা

স্পিকার তখন মাইক–বিভ্রাট এবং মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন। ২০ মিনিটের বিরতি শেষে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। এর আগে ১২ মার্চেও প্রথম দিনেই মাইক–বিভ্রাটের কারণে ৪০ মিনিট অধিবেশন বন্ধ ছিল।

বিভ্রাটের কারণ

মাইক–বিভ্রাটের কারণ স্পিকার ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দুটি প্রধান কারণে বিভ্রাট ঘটছে:

জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদের আসবাবপত্র তছনছ করেছে।
সংসদে স্থাপিত মাইক সিস্টেমের সংক্রান্ত ওয়ারেন্টি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুপস্থিত।

স্পিকার আরও জানান, স্থানীয় কোম্পানিগুলো মেরামতের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। সংসদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত তথ্য সরবরাহের জন্য।

অতীতের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন, ছাত্র–জনতা সংসদে ঢুকে সংসদের বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র এবং সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। পরে মেরামত করা হলেও বিভ্রাট প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হেডফোন এবং শব্দের মাত্রা নিয়েও সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন।

রাতের বিভ্রাট

রাতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এর বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমে ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন। স্পিকার আরও পাঁচ মিনিট সময় বাড়ান, কিন্তু এক মিনিট পর মাইক আবার বিকল হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিনিটখানেক মাইক ছাড়াই বক্তব্য দেন। এ পরিস্থিতিতে স্পিকার সংসদের অধিবেশন সোমবার বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।


সংসদে পুনরায় মাইক–বিভ্রাট হওয়া কার্যক্রমকে বিঘ্নিত করছে এবং জাতীয় সংস্থার প্রতিপাদ্য কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সংসদের কার্যক্ষমতা ও প্রকাশ্য আলোচনার মান হ্রাস করতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স