স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় অধিবেশনে রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রেক্ষাপট
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণে আমি বুঝতে পেরেছি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লাখ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমার পাশে ছিল। একটি দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এটি বোঝার সুযোগ হতো না।” তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং বলেন, দেশনেত্রী যিনি তাকে রাজনীতিতে এনেছিলেন, তাঁর অপূর্ণতা সংসদে কখনো পূরণ হবে না।
রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমার অসংখ্য নেতা–কর্মী দল থেকে বহিষ্কার হলেও আমার পাশে থেকে নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন। তারা আমাকে ছেড়ে যাননি।”
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য বারবার আলোচনা হয়েছে। তবে এবারও রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণ দিয়েছেন। এতটুকু স্বাধীনতা আমরা রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারিনি, তাহলে কীভাবে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা সম্ভব?”
দলীয় নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা
রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। বলেন, “দক্ষিন এশিয়ার অন্য দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিজ্ঞ পিএইচডিধারী নিয়োগ পায়; বাংলাদেশে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সোয়েটার ফ্যাক্টরির মালিক নিয়োগ পেয়েছেন। একই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগেও ঘটেছে। দলীয় ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, দল করার কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু পদ না দিলে এটি দুর্ভাগ্যজনক।
জনগণ ও নারীর ভূমিকা
রুমিন বলেন, “হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ আমরা সংসদে এসেছি। তারা নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন আজও আমাদের দায়িত্ব। বিশেষ করে আন্দোলনের সামনের সারিতে নারীরা ছিলেন। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তারা হারিয়ে গেছেন। নারীর পোশাক, চেহারা, হাসি ট্রলের বস্তু হয়ে যাচ্ছে। এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ।”
অর্থনীতি ও জাতীয় সমস্যা
রুমিন ফারহানা বলেন, “চাকরির জন্য কর্মমুখী শিক্ষা দেয়ায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বিশ্বব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় বাংলাদেশের নাম এসেছে। তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বিদেশি বিনিয়োগের ক্রমাবনতি মোকাবিলা ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যহীনতা আমাদের অর্থনীতি দুর্বল করেছে। গত ১৫ বছরে ২৩,৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এই টাকা ফেরত আনা, খেলাপি ঋণ কমানো ও মিথ্যা ইনভয়েসিং বন্ধ করা না গেলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে না।”
রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে জাতীয় নীতি, অর্থনীতি, জনগণের স্বার্থ ও নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।