ঢাকা

শিরীন শারমিন আদালতে ২০ মিনিট, পরে সিঁড়িতে পড়ে যান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকা সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারের প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ডিবি পুলিশ তাঁকে ঢাকা ধানমন্ডির একটি বাড়ি থেকে আটক করে। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে, পরে লালবাগ থানায় করা হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক জুয়েল রানা শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড ও জামিন—দুটোই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা

শিরীন শারমিনকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। ভিড়ের কারণে শিরীন শারমিন সিঁড়িতে সাময়িক ভারসাম্য হারিয়ে পড়েন। তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি পড়ে যাননি; পা একটু বেঁকে যায় এবং নারী পুলিশ সদস্যরা চারপাশ থেকে ধরে রাখেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার একটি মামলায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকার লালবাগে অনুষ্ঠিত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় মো. আশরাফুল ফাহিম আহত হন। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৃতীয় আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরী।

মামলায় শিরীন শারমিনের নাম ৩ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়িত ছিলেন এবং তার পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশে ঘটনার ঘটনায় অংশগ্রহণ করেছেন।

রিমান্ড আবেদনের বিবরণ

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আদালতে জানান, পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয়, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জন্য শিরীন শারমিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তবে আদালত এই আবেদনে সায় দেননি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামলায় শিরীন শারমিনের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি গুলি করেননি। মামলায় ১৩০ জন আসামি রয়েছে, আর এজাহারে শিরীন শারমিনের নাম ছাড়া অন্য কোনো উল্লেখ নেই।

শিরীন শারমিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

শিরীন শারমিন ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদে প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। অভ্যুত্থানের পর ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় নেন, এরপর দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা আছে, যার মধ্যে তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন।

এই গ্রেপ্তারি ও আদালতের সিদ্ধান্ত শিরীন শারমিনকে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হিসেবে স্থির রাখছে এবং মামলার তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহে প্রভাব ফেলবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স