ঢাকা

বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বললেন হাসনাত, জুলাই যোদ্ধা বিল পাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদ বুধবার ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল’ পাস করেছে। বিলটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধ্যাদেশের আইনগত অনুমোদন নিশ্চিত করে, যা ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো নতুন মামলা বা কার্যধারা দায়ের না করার বিধান দেয়।

বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিলটি পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, কমিশন যদি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয়, তবে এটি সরকারি প্রভাবের অধীনে দমনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ধরেন, উল্লেখ করে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতিক্রিয়া

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, ওই সময়ের গণহত্যা এবং নিপীড়ন যেসব ছাত্র–জনতার ওপর চালানো হয়েছিল, তাদেরকে আইনি সুরক্ষা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

বিসিবি নিয়ে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ক্রীড়া উপদেষ্টাদের একতরফাভাবে প্রভাব প্রয়োগের ফলে জেলা কমিটিগুলোতে বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই কমিটি নিরপেক্ষভাবে পুনর্গঠন করেছে এবং নির্বাচনের জন্য তিন মাসের মধ্যে ভোটের ব্যবস্থা করা হবে।

মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। কমিশনের কাজের সঙ্গে গুম ও আইসিটি আইনের সমন্বয় করা হবে, যাতে প্রতিটি তদন্ত কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।

বিলের মূল বিধানসমূহ
দায়মুক্তি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পূর্বে করা দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বা কার্যধারা বাতিল হবে। নতুন মামলা বা কার্যধারা দায়ের করা আইনত নিষিদ্ধ।
নিরীক্ষণ ও তদন্ত: হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তা তদন্ত করবে। তবে তদন্ত চলাকালে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার জন্য কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রতিরোধের স্বীকৃতি: যদি কমিশন মনে করে যে অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দেওয়া যাবে।
আদালতের সমন্বয়: কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে, এবং কমিশনের তদন্তের ফলাফলে নতুন মামলা করা যাবে না।
বিতর্কের মূল দিক

হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, মানবাধিকার কমিশন স্বায়ত্তশাসিত না হলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত দায়মুক্তি কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের শিকার হলে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বিচারপদ্ধতির স্বচ্ছতা বিপন্ন হবে।

বিলে উল্লেখিত বিধানগুলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে, তবে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং সরকারী প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম বজায় রাখা চূড়ান্ত গুরুত্ব বহন করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স