ঢাকা

‘অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি বিএনপি’—বদিউল আলম মজুমদার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রণীত একাধিক অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক Badiul Alam Majumdar। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়নি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর National Press Club Dhaka-এ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। “মানবাধিকার সুরক্ষা ও স্বাধীন বিচার বিভাগ-সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে নাগরিক ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এ আলোচনা আয়োজন করে Human Rights Support Society (এইচআরএসএস)।

‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভিশাপ’ প্রশ্ন

বক্তব্যে Badiul Alam Majumdar বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যেসব অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছিল, সেগুলো বাতিলের যৌক্তিকতা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কি কোনো অভিশাপ আছে?” তাঁর মতে, অতীতে এ ধরনের একক রাজনৈতিক আধিপত্য অনেক সময় রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য নষ্ট করেছে।

বিচার বিভাগ ও প্রশাসন নিয়ে উদ্বেগ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার অনেক নেতাকর্মী আদালতে ন্যায়বিচার পেতে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো উদ্বেগজনক।

স্থানীয় সরকার ও প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গ

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। এই কাঠামো উপেক্ষা করে প্রশাসক বসানো গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।

তিনি বলেন, “বিগত সরকারের সময় বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনের দাবি তুললেও এখন সেই অবস্থান বাস্তবায়নে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।”

‘ক্ষমতায় গেলে বিপরীত পথে না যাওয়ার আহ্বান’

Badiul Alam Majumdar বলেন, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের এমন আইন ও নীতি গ্রহণ করা উচিত যা ভবিষ্যতে বিরোধী দলে গেলে নিজেদের ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।”

গণভোট ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক আইন বাতিলের প্রবণতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করতে পারে।

তিনি অতীতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে বলেন, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ বহুবার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শাসনব্যবস্থার সংকট তৈরি করেছে।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তা

গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন Shahzada Al Amin Kabir। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন Ijajul Islam।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক Abu Sayeed Khan ও Masud Kamal, Odhikar-এর পরিচালক ASM Nasir Uddin, জি-নাইনের সাধারণ সম্পাদক Shakhawat Hossain, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী Zakir Hossain, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী Shishir Monir ও Imran Siddique।

এছাড়া বক্তব্য দেন Samanta Sharmin (জাতীয় নাগরিক পার্টি), আদিবাসী ফোরামের প্রতিনিধি Dipayan Khisa, গুমের শিকার মোহন মিয়ার বাবা জামশেদ মিয়া এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’ আহমেদ সামরান।

রাজনৈতিক ও নাগরিক উদ্বেগের প্রতিফলন

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং স্থানীয় সরকারের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্ক রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স