ঢাকা

ঢাবি শাখায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী: সভাপতি সামি, সম্পাদক রিয়াদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
‘শ্রেণি সচেতন শিক্ষায় ভাঙো সন্ত্রাস-শিক্ষাবাণিজ্য-সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ কাউন্সিলে সামি আব্দুল্লাহ্‌কে সভাপতি এবং জাহিদুল ইসলাম রিয়াদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে ইসরাত জাহান ইমুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন অনির্বাণ মৈত্র (রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক), বৈশাখী রিথী (অর্থ সম্পাদক), মাহমুদুল হাসান সাইফ (দপ্তর সম্পাদক) এবং নাফিস ফেরদৌস (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. ইব্রাহীম, দেওয়ান অর্জন, স্যুবাইয়্যা তাইয়্যূবা, মুনিয়া আক্তার, মাইশা মাহজাবিন, অরূপ রতন, জামিলুর রহমান ও সব্যসাচী খালিদ।

বটতলায় উদ্বোধন, কনফারেন্স রুমে অধিবেশন

দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলা প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায়।

পরে শহীদ মুনীর চৌধুরী কনফারেন্স রুম-এ বিদায়ী সভাপতি নূজিয়া হাসিন রাশার সভাপতিত্বে মূল কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশন শেষে নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথ পাঠ করান কেন্দ্রীয় সভাপতি।

রাজনৈতিক বক্তব্যে সমালোচনার সুর

উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তারা দেশের চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেন।

দিলীপ রায় কুষ্টিয়ায় পীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ হত্যাকাণ্ডে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা উদ্বেগজনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণের আন্দোলনের সাফল্য বারবার ‘বুর্জোয়া শ্রেণি’ দখল করেছে।

একই সঙ্গে তিনি ‘মবতন্ত্র’ এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, জনগণ বিকল্প না পেয়ে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে।

সংস্কার ও শিক্ষানীতিতে প্রশ্ন

সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইকবাল কবীর বলেন, অভ্যুত্থানের পর নানা সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও বেকারত্ব ও শিক্ষা খাত নিয়ে কোনো কার্যকর কমিশন হয়নি। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন হলেও শিক্ষা কমিশন গঠন না হওয়া বড় একটি ঘাটতি।

অন্যদিকে মোশাহিদা সুলতানা বলেন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ শিক্ষার্থীদের অধিকারবোধ দুর্বল করছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা টেনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম খরচকে ‘সুবিধা’ হিসেবে দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিছিলের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি

কাউন্সিল শেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বটতলা থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে টিএসসি-তে গিয়ে শেষ হয়।

প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও অবস্থান নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষানীতি, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে, তা ছাত্ররাজনীতিকে আবারও সক্রিয় করে তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নতুন নেতৃত্বের সামনে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং তাদের ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স