ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন না করে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ভিন্ন ধরনের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে নামকরণের পরামর্শ দেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল নাম পরিবর্তনের
জানা গেছে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নামে করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠায়।
প্রস্তাবটি ঈদুল আজহার আগেই পাঠানো হয় বলে সূত্র দাবি করেছে। তবে আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, যেখানে প্রস্তাবটি অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
‘নতুন প্রতিষ্ঠান হলে নতুন নাম’—অনুশাসন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাব পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট অনুশাসন দেওয়া হয় যে, যদি কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠান নামকরণ করতেই হয়, তাহলে সেটি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
অর্থাৎ বিদ্যমান কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত নামে নামকরণের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে সেখানে নামকরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়টিকে প্রশাসনিক ও নীতিগত অবস্থান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচিতি
কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)-এর অধীনে পরিচালিত একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি মূলত দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।
নামকরণ ইস্যুতে প্রশাসনিক অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে নামকরণের বিষয়টি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের পর নানা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো ও প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক নীতির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো বা নতুন প্রকল্প তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগের একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা
এর আগে মশা নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন হয়নি বলে জানা যায়।
সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বরাতে বলা হয়, মশা নিধনের কার্যকর পদ্ধতি শেখার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; দেশেই স্থানীয় পরিবেশে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নীতিগত বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ নামকরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে নামকরণের অনুশাসন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একটি নীতিগত বার্তা বহন করছে। এতে বিদ্যমান কাঠামো পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে নামকরণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলমান রয়েছে।