গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানিসংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে রাজধানীতে গণমিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। শনিবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) বিকেলে ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় এ কর্মসূচির আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধে ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ শেষে বিজয়নগর থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রাজনৈতিক উত্তাপ ও জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।
সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
সমাবেশে প্রধান বক্তব্যে এ টি এম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন না করে বরং ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওয়াদা করলেও ক্ষমতায় গিয়ে সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে ‘গণবিরোধী অবস্থান’ গ্রহণের অভিযোগ করেন।
জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে দেশে কোনো সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবে পাম্পে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য, কর্মঘণ্টা কমানো এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
তার ভাষায়, “সংকট না থাকলে মানুষের ভোগান্তি কেন বাড়ছে—এ প্রশ্নের জবাব সরকার দিচ্ছে না।”
চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সমালোচনা
আজহারুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই চাঁদাবাজির প্রবণতা ফিরে এসেছে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল থেকে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো রাজনৈতিক দলের স্থায়ী ক্ষমতার নিশ্চয়তা নয়। অতীত উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, জনগণের আস্থা হারালে যে কোনো দল ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে না।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিবর্তনের বাস্তবতা না বুঝলে রাজনৈতিক পরিণতি আরও কঠিন হতে পারে।
অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ধারা জনগণের প্রত্যাশার বিপরীত পথে যাচ্ছে এবং সরকার ক্রমশ গণবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন দলের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আহমদ আলী কাসেমী, মুসা বিন ইযহার, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বিল্লাল মিয়াজী, আনোয়ারুল ইসলাম, আব্দুল ওহাব মিনার এবং রাশেদ প্রধান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং সঞ্চালনা করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
রাজনৈতিক বার্তা ও প্রেক্ষাপট
বক্তারা দাবি করেন, জনদুর্ভোগ, জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল। তাঁদের মতে, এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলের এই কর্মসূচি রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী জোটের সক্রিয়তা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
গণমিছিল
সমাবেশ শেষে বিজয়নগর থেকে শুরু হওয়া গণমিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়।