ঢাকা

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর ইরানি তেল বাণিজ্যে নতুন পদ্ধতি, চীনা মুদ্রায় লেনদেন ভারতীয়দের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার পর ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি নতুন পদ্ধতিতে শুরু করেছে ভারতের কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার। আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের পরিবর্তে এবার চীনের মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহার করে ইরানি তেলের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নয়াদিল্লিতে থাকা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি জ্বালানি কোম্পানিগুলো আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন করছে।

ইউয়ানে লেনদেন, মধ্যস্থতায় আইসিআইসিআই ব্যাংক

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইসিআইসিআই ব্যাংক তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে ইরানি তেলের অর্থ গ্রহণ ও স্থানান্তরের কাজ করছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো সরাসরি মার্কিন ডলার ব্যবহার না করে চীনা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করছে।

এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতার কারণে তৈরি হওয়া লেনদেন জটিলতা এড়ানোর একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ৯ বছর পর ইরানি তেল আমদানি

সূত্র অনুযায়ী, ভারতের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন চলতি মাসের শুরুতে প্রায় ৯ বছর পর প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। এই চালানের মূল্য প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে।

একই সময়ে বেসরকারি খাতের জ্বালানি জায়ান্ট রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ–এর জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ ভারতের বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে তেল খালাসও করেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সাময়িক শিথিলতা

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরান ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল বাণিজ্যের ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত মূলত বিশ্ববাজারে যুদ্ধজনিত কারণে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।

তবে এই শিথিলতার মেয়াদ সীমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষের পথে চাপ

স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানি তেল সমুদ্রপথে কেনাবেচার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ এই ছাড় রোববার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর ফলে ইরানি তেল আমদানিতে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিকল্প অর্থনৈতিক পথ

বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের পরিবর্তে ইউয়ান ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত ও ইরান কার্যত পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে একটি বিকল্প লেনদেন কাঠামো তৈরি করছে। এতে চীনের আর্থিক ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক প্রভাবও বাড়ছে।

তবে ব্যাংকিং ও নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতার কারণে এই ধরনের লেনদেন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাজার প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানি তেল বাজারে ফিরে এলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে, যা তেলের দামে সাময়িক স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হলে আবারও সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে ডলার বাদ দিয়ে ইউয়ানে লেনদেন বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার সুযোগে ইরানি তেল আমদানি এবং ইউয়ানভিত্তিক লেনদেন—এই দুই ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই বাণিজ্যিক প্রবাহ কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স