ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: তিন মুখ্যমন্ত্রীকে এনে প্রচারে বিজেপি, পাল্টা হুঁশিয়ারি মমতার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে রাজ্যে একদিনেই একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য।

একদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (ভারতীয় জনতা পার্টি) তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে মাঠে নামিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে, অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (তৃণমূল কংগ্রেস) নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন।

বিজেপির একদিনে তিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার

শনিবার রাজ্যের তিনটি পৃথক স্থানে বিজেপির নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী—যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং ভজনলাল শর্মা।

বিজেপির এই কৌশলকে রাজ্য নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যোগী আদিত্যনাথের আক্রমণাত্মক বক্তব্য

কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ তৃণমূল কংগ্রেসকে “দুর্নীতি, তোষণ ও মাফিয়ারাজের প্রতীক” বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে “লাভ জিহাদ” ও “ল্যান্ড জিহাদ” বন্ধ করা হবে এবং রাজ্যকে “সোনার বাংলায়” পরিণত করা হবে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার পাল্টা অভিযোগ

কালিম্পঙে নির্বাচনী সভায় হিমন্ত বিশ্বশর্মা তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে “মিথ্যা প্রচার” চালানোর অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না—মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া নিয়ে যে প্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে পূজা দিয়ে ভজনলাল শর্মা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে “পরিবর্তনের হাওয়া” বইছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শান্তি ও উন্নয়ন ফিরবে।

শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জ

নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি বিধায়ক ও বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত।

তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি মমতাকে পরাজিত করেছিলেন এবং এবার ভবানীপুর আসনেও একই ফলাফল ঘটবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্য

হাওড়ার পাঁচলায় নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বিজেপির “পতন শুরু হয়ে গেছে” এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলার মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “মানুষ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।”

বাঙালি শ্রমিক ইস্যু ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এটি তিনি রাজনৈতিক বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন সূচি

রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট হবে ১৫২ আসনে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে বিজেপি কেন্দ্রীয় মুখ্যমন্ত্রীদের মাঠে নামিয়ে শক্তিশালী প্রচার কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য প্রশাসন ও উন্নয়ন ইস্যুকে সামনে রেখে পাল্টা প্রচারে নেমেছেন।

এতে স্পষ্ট, নির্বাচন এখন কেবল রাজ্য রাজনীতির লড়াই নয়, বরং কেন্দ্র বনাম রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

শেষ মুহূর্তের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। একদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জোরালো প্রচার, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স