ঢাকা

জার্মানির অপরচুনিটি কার্ড নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, আবেদনপদ্ধতি জানুন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইউরোপের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ Germany দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি পূরণে নতুন সুযোগ হিসেবে চালু করেছে ‘অপরচুনিটি কার্ড’ (Opportunity Card)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপের বাইরে থেকে দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করার প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কী এই অপরচুনিটি কার্ড

অপরচুনিটি কার্ড মূলত একটি রেসিডেন্স পারমিট, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের বাইরে থেকে আগত দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়। এই কার্ডের মেয়াদ সাধারণত এক বছর, এবং এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে চাকরি নিশ্চিত করতে হয়। প্রয়োজন হলে জার্মানিতে অবস্থান করে কার্ডের মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদনও করা যায়।

কারা আবেদন করতে পারবেন

এই কার্ডের জন্য প্রধানত দুই ধরনের আবেদনকারী বিবেচিত হন—

প্রথমত, যাঁদের জার্মানি স্বীকৃত একাডেমিক বা পেশাগত যোগ্যতা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যাঁরা এখনও প্রতিষ্ঠিত দক্ষ কর্মী নন, কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করেন—যেমন জার্মান স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি, অন্তত দুই বছরের ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, এবং ভাষাগত দক্ষতা।

ভাষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে Common European Framework of Reference for Languages (CEFR) অনুযায়ী ন্যূনতম জার্মান ভাষায় A1 অথবা ইংরেজিতে B2 স্তরের দক্ষতা থাকতে হবে। সাধারণভাবে আইইএলটিএস ৫.৫–৬.৫ বা টোফেল আইবিটি ৭২–৯৪ স্কোরকে এই মানদণ্ডের সমতুল্য ধরা হয়।

পয়েন্টভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি

যাঁদের যোগ্যতা আংশিক বা বিকাশমান, তাঁদের ক্ষেত্রে একটি পয়েন্ট সিস্টেম চালু রয়েছে। মোট ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই পয়েন্ট দেওয়া হয় বিভিন্ন মানদণ্ডে—

শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি
জার্মানিতে চাহিদাসম্পন্ন পেশায় দক্ষতা
কাজের অভিজ্ঞতা (২–৩ পয়েন্ট)
ভাষা দক্ষতা (১–৪ পয়েন্ট)
বয়স (৩৫ বছরের নিচে হলে বেশি সুবিধা)
পূর্বে জার্মানিতে বসবাসের অভিজ্ঞতা
দম্পতির ক্ষেত্রে যৌথ যোগ্যতা
কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে

অপরচুনিটি কার্ডধারীরা জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কিছু সীমিত কাজও করতে পারবেন। যেমন—

সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ
চাকরি পাওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি (সর্বোচ্চ ২ সপ্তাহ) জব ট্রায়াল
চাকরি পেলে দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্স পারমিটে রূপান্তরের সুযোগ
আবেদনপদ্ধতি

আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা। এরপর জার্মানির অফিসিয়াল ভিসা আবেদন পোর্টাল (VIDEX)-এ ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করে সেটি প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের সময় যেসব নথি জমা দিতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে—

পূরণকৃত আবেদন ফরম
বৈধ পাসপোর্ট
বায়োমেট্রিক ছবি
একাডেমিক ও পেশাগত সনদ
কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র
মোটিভেশন লেটার
ভাষা দক্ষতার প্রমাণ
জার্মানিতে থাকার ঠিকানা
স্বাস্থ্যবিমার কাগজপত্র
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (ব্লক অ্যাকাউন্টে মাসিক প্রায় ১,০২৭ ইউরো সমপরিমাণ অর্থ)
কোথায় আবেদন জমা দিতে হবে

বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের নির্ধারিত দিনে ঢাকার German Embassy Dhaka-এ উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ভিসা আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ ইউরো।

প্রসেসিং সময়

অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নির্ভুল নথিপত্র জমা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ কর্মী সংকট মোকাবিলায় জার্মানির এই উদ্যোগ একদিকে যেমন দেশটির অর্থনীতিকে গতিশীল করবে, অন্যদিকে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রবেশের নতুন পথ তৈরি করবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে এই সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স