ঢাকা

এলপিজিসহ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুললেন আখতার হোসেন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)–এর মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সংসদে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত দামে জ্বালানি পণ্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তা অবিলম্বে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিকেল তিনটায় অধিবেশন শুরু হলে জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে আলোচনা উঠে আসে।

‘মাত্রাতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করছে’

সংসদে আখতার হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাতারাতি জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর মতে, সরকার আগে জানিয়েছিল জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এভাবে হঠাৎ ও অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনা এখন সময়ের দাবি।”

বৈশ্বিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ

সংসদে বক্তব্যে তিনি বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত করেন। আখতার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখছি জ্বালানি সংকটের পেছনে কৃত্রিম কারণও থাকতে পারে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।”

এলপিজি দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের প্রভাব

এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, এলপিজির দাম বৃদ্ধি শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারে নয়, উৎপাদন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে রান্নাবান্না ও ছোট উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।”

সরকারের প্রতি আহ্বান

আখতার হোসেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা—সব বিষয় পর্যালোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ নীতি গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মজুতদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর তাগিদ

সংসদে আখতার হোসেন বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি জনজীবনে পড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে না আনলে অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও চাপ বাড়বে। তাই এলপিজিসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম পুনর্মূল্যায়ন করে সহনীয় পর্যায়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্য নিয়ে সংসদে এই ধরনের আলোচনা সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ ও বাজার ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স