ঢাকা

ইরানের জাহাজ জব্দ অভিযান: হরমুজ প্রণালিতে ভারতগামী জাহাজ আটক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-এ উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ভারতগামী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজসহ একাধিক জাহাজ আটক করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

আইআরজিসি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র ইরানি স্পিডবোটগুলো দ্রুতগতিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরে মুখোশধারী ও ভারী অস্ত্রধারী সেনারা জাহাজে উঠে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম নূর নিউজ দাবি করেছে, আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ‘ইপামিনোন্ডাস’, অন্যটি ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী কিছু জাহাজের দিকে গুলি চালায়, যার ফলে একটি জাহাজ থেমে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘন এবং নৌ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে দুটি জাহাজকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, আটক হওয়া ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজটি ইসরায়েল-সম্পর্কিত মালিকানার সঙ্গে যুক্ত, যা “শত্রুভাবাপন্ন কার্যক্রমের” অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘ইপামিনোন্ডাস’ জাহাজটি নৌপথে দিকনির্ণয় ব্যবস্থা নিয়ে কারসাজি করছিল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলছিল—এমন অভিযোগও আনে ইরান।

আইআরজিসি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ অমান্য করা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করার ঘটনাকে “চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়।

এই নৌ-ঘটনার সময়ই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চলছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং ইরানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ইরান একটি চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে “ভণ্ডামি” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অবরোধ, হুমকি এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই প্রকৃত আলোচনার প্রধান বাধা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান সবসময়ই কূটনৈতিক সংলাপকে স্বাগত জানায় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের সামরিক ও নৌ-সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিপিং রুটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স