প্রতিহিংসাবশত কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দায়েরের সুযোগ আর থাকবে না—এমন কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Shama Obaid। তিনি বলেছেন, সরকার দলমত–নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতকে দমন করার কোনো নীতি গ্রহণ করা হবে না।
শনিবার বিকেলে Faridpur-2 constituency-এর সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে সেনহাটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘সবাইয়ের সরকার’ হিসেবে বিএনপির অবস্থান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার নিজেকে ১৭ কোটি মানুষের সরকার হিসেবে বিবেচনা করে। “কে আমাদের ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি—এই হিসাব আমরা করি না। কে কোন দল করে, সেটাও আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার জন্য কাজ করতে চাই,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের পর দায়ের হওয়া অধিকাংশ মামলাই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ থেকে উদ্ভূত। “এখন আর রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কাউকে হয়রানি করার সুযোগ দেওয়া হবে না,”—যোগ করেন তিনি।
সহিংসতা নিয়ে কড়া বার্তা
সালথায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ সময় তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা বা সরকারি সম্পদে আঘাত করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। “সে বিএনপির হোক বা আমার ঘনিষ্ঠ—আইনের কাছে সবাই সমান,”—বলেন প্রতিমন্ত্রী।
খাল পুনঃখনন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে তিনি খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে সরকারের বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, বিগত প্রায় ১৭ বছরে দেশের কৃষিখাতে নদী-খাল পুনঃখননের মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে অনেক জলাশয় নাব্যতা হারিয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস
শামা ওবায়েদ বলেন, খাল খননের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। তাঁর মতে, এই কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন। আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
সরকারের এই ঘোষণাগুলো বাস্তবায়ন হলে রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।