ঢাকা

‘হামলাকারী’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের শাস্তি চেয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার ও একাডেমিক সনদ বাতিলের দাবিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর Dhaka University-এর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরে শাহবাগ থানার সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
‘হামলার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি’
মানববন্ধনে ডুজার বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
তাঁরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে মামলা গ্রহণ, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিক সমাজের সংহতি
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
এদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি Shahidul Islam, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আবু হানিফ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক মাহবুব রনি, বিডিনিউজ২৪-এর সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, এবং অন্যান্য সাংবাদিকরা।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং এটি গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ নিয়ে বক্তব্য
মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম যখন সত্য প্রচারের পরিবর্তে ক্ষমতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক কাঠামো থেকে সরে ফ্যাসিবাদের দিকে যায়। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিরপেক্ষ না থেকে পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।
ডুজার অবস্থান
ডুজার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও নির্যাতনের খবর সবচেয়ে আগে তুলে ধরেন। কিন্তু আজ তারাই হামলার শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান এবং নবনির্বাচিত সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি।
স্মারকলিপি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এর আগে শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য A B M Obaidul Islam-এর কাছে তিন দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন ডুজা নেতারা।
সেখানে ১২ জন কথিত হামলাকারীর নাম, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ, আবাসিক হল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপাচার্য ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তদন্তের আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি কমিটি গঠন করেছে এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
এদিকে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গেছে। রমনা থানার উপকমিশনার (ডিসি) অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও পর্যবেক্ষণ
ঘটনার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রক্রিয়ার কারণে বিষয়টি এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয় নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। ‘হামলাকারী’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের শাস্তি চেয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স