ঢাকা

শ্রমিক অধিকারে জোর দিয়ে ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতের দাবি রুহিন হোসেনের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন Ruhin Hossain Prince। তিনি বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, গৃহশ্রমিক এবং কৃষক-খেতমজুরদের বেঁচে থাকার অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ গৃহশ্রমিক ইউনিয়ন’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিতের দাবি

Communist Party of Bangladesh (সিপিবি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, দেশে ও প্রবাসে কর্মরত গৃহশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে এবং এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, গৃহশ্রমিকদের জন্য প্রণীত ১১ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। “শ্রমিকদের প্রধান লড়াই হচ্ছে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। কাগজে-কলমে স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে শ্রম আইনের অধীনে যে অধিকারগুলো থাকা উচিত, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি,”—যোগ করেন তিনি।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বাস্তবতা

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকেরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তারা এখনও আইনি সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে গৃহশ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও প্রকট।

অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিপিবির ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক Luna Noor। এছাড়া বক্তব্য দেন গৃহশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি Moyna Akter, সাধারণ সম্পাদক Afroza Akter, কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য Shakharbh Hossain Sebok এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য Salma Akter। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন Rabiul Islam Rabi।

মিছিল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলা এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নেতারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শ্রমিক নেতাদের মতে, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স