ঢাকা

ইরানের সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে অনিশ্চয়তা, হামলার আশঙ্কায় তেহরানের প্রস্তুতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। সর্বশেষ আলোচনার জন্য তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। একই সময়ে ইরান সম্ভাব্য তীব্র হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস ধরে চলমান এই সংঘাত নিরসনের কোনো কার্যকর অগ্রগতি এখনও হয়নি। বরং দুই পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে।

ট্রাম্পের অসন্তোষ ও কঠোর অবস্থান

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি নতুন চুক্তি চাইলেও তাদের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব এখন বিভক্ত এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধে জর্জরিত।

ট্রাম্প বলেন, “তারা এমন কিছু দাবি করছে যা আমি মানতে পারি না। আলোচনা চলছে, তবে আমি এতে সন্তুষ্ট নই।”

ফ্লোরিডায় এক পৃথক বক্তব্যে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই সংঘাত শেষ করতে চায় না, কারণ “ভবিষ্যতে আবার একই সংকট দেখা দিতে পারে।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের “হুমকিমূলক ও কঠোর অবস্থান” পরিবর্তন করে, তবে তেহরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত। তবে তারা কোনো দ্রুত ফলাফলের প্রত্যাশা করছে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও একই সঙ্গে যেকোনো সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে দেশ রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।

সামরিক প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, তেহরান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার জন্য সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র আক্রমণ চালাতে পারে, যার পর ইসরায়েলও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। এই আশঙ্কায় ইরান প্রতিরক্ষা কৌশল আরও শক্তিশালী করছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ

সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

আন্তর্জাতিক মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ

সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর Friedrich Merz যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করায় ওয়াশিংটন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এসেছে।

একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এই মন্তব্যকে “অপ্রয়োজনীয় ও অনুপযুক্ত” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

কূটনৈতিক আলোচনা অনিশ্চিত

গত মাসে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। এরপর নতুন কোনো বৈঠকের তারিখও নির্ধারণ হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট শিগগিরই সমাধানের পথে যাচ্ছে না, বরং আরও দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রভাব

ইরানের প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের দাম ওঠানামা করছে, যদিও সর্বশেষ খবর প্রকাশের পর কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

সার্বিক পরিস্থিতি

বর্তমানে দুই পক্ষই কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখলেও বাস্তবে অবস্থান কঠোর। একদিকে ইরান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক শর্তে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কোন পথে গড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স