ব্যাংক খাতে সংস্কারের নামে লুটপাটকারীদের কাছে পুনরায় মালিকানা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন Akhtar Hossain। তিনি বলেন, যাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়েছে, নতুন আইন পাসের মাধ্যমে তাদেরই আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতিকে আরও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে National Citizen Party (এনসিপি)-এর শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। সমাবেশের প্রতিপাদ্য ছিল—‘মে দিবসের অঙ্গীকার: ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অংশীদারত্বের অধিকার’।
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন নিয়ে সমালোচনা
আখতার হোসেন বলেন, বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করেই ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই আইনের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিরা পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। “এটি কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে,”—মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রসঙ্গ
শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষকে অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করা বন্ধ করতে হবে। পেশাভিত্তিক বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি মুচি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দুর্বিষহ জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, “পেশার কারণে কোনো মানুষের মর্যাদা কমে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, উৎপাদনে অংশীদারত্ব এবং লাভের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক
সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য Abdul Hannan Masud। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শ্রমিক-পরিবার থেকে আসা প্রতিনিধি রয়েছে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বলেন, “আমি শ্রমিক পরিবারের সন্তান, আখতার হোসেন কৃষকের সন্তান, আর হাসনাত আবদুল্লাহ রাজমিস্ত্রির সন্তান।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও Jamaat-e-Islami Bangladesh-এর আমির Shafiqur Rahman-ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান।
তবে সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁদের অভিযোগ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও সংসদে তাদের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব নেই।
অন্যান্য বক্তব্য ও দাবি
এনসিপির কৃষক সংগঠন ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’র প্রধান সমন্বয়কারী Saeed Ujjal বলেন, “অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন শ্রমিকরা, অথচ এখন ঋণখেলাপিরা সংসদে জায়গা করে নিচ্ছেন।”
শ্রমিক শক্তির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক Al Amin Khan বলেন, আন্দোলনে শ্রমিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও রাজনৈতিক কাঠামোয় তাদের প্রতিফলন নেই।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘স্যালুট’ দিয়ে আলোচিত রিকশাচালক Sujon। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্য বাড়ে, কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বাড়ে না। কোনো সরকারই শ্রমিকদের যথাযথ মূল্য দেয় না।”
সংগঠনের প্রস্তাবিত কৌশলপত্র
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক Mazharul Islam Fakir। তিনি শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব Riaz Morshed একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন, যেখানে চার দফা প্রস্তাব রাখা হয়—
সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ
চাকরি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
উৎপাদিত মুনাফার অন্তত ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন
রাজনৈতিক দল ও সংসদে অন্তত ৫ শতাংশ শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা
সমাপনী কর্মসূচি
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা একটি মিছিল বের করেন, যা শাহবাগের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।