ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রধান দুই সংবাদমাধ্যম CNN ও The New York Times-এর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি সিএনএনকে ‘নির্বোধ’ এবং নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’ বলে অভিহিত করেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানে কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় সুবিধা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার কথা ছিল।
ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
আলোচনার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন দেখি তারা (ইরান) কতটা ভালো করছে বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিউইয়র্ক টাইমসে যা পড়ি এবং সিএনএনে যা দেখি, তা দেখে মনে হয় তারা ইরানের বিজয় দেখাতে চায়। আমি সিএনএন দেখি, কারণ শত্রুর গতিবিধি বোঝার জন্য দেখতে হয়।”
সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যম দুটি এমনভাবে পরিস্থিতি উপস্থাপন করছে যাতে মনে হয় ইরান সামরিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক টাইমস যা করছে, আমার মতে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো।”
তিনি আরও দাবি করেন, এসব প্রতিবেদনের পেছনে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে এবং এটি দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।
সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি The New York Times-এর সম্পাদকীয় বোর্ড এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছে না। সেখানে বলা হয়, ছোটখাটো সাফল্য বড় কোনো কৌশলগত জয় এনে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং এটি ওয়াশিংটনের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা নয়, বরং চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
হোয়াইট হাউসের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি