মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষভাগে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ছিল না প্রত্যাশিত ধার। কখনো শর্ট বল, কখনো লাইন-লেংথের বিচ্যুতি—সব মিলিয়ে এলোমেলো বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ম্যাচে ফিরে এসেছে পাকিস্তান।
দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯ রান। বাংলাদেশের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন মনে করেন, বোলারদের পরিকল্পনাহীন বোলিংই প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, বোলাররা ঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারেননি বলেই পাকিস্তানের রান দ্রুত বেড়েছে। উইকেটের আচরণ বুঝে আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ ধরে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। সুযোগও এসেছিল কয়েকবার, কিন্তু ফিল্ডিং ব্যর্থতায় তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। মাহমুদুল হাসান ও সাদমান ইসলামের হাত ফসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ বেরিয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান স্বস্তি পেয়ে যায়।
বিশেষ করে অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আজান আওয়াইস আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেছেন। নাহিদ রানার শর্ট পিচ ডেলিভারিতে হেলমেটে আঘাত পেলেও ভয় পাননি তিনি। বরং পরের বলেই আবার পুল শট খেলে নিজের আত্মবিশ্বাসের জানান দেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হওয়ার পর শেষ বিকেলে ৪৩ ওভার বোলিং করে মাত্র একটি উইকেট তুলতে সক্ষম হয়। একমাত্র সাফল্য এনে দেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি ফেরান ইমাম উল হককে।
যদিও উইকেটে এখনো ঘাস রয়েছে এবং পেসারদের সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল, তবু সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা। সালাহউদ্দীনের মতে, অতিরিক্ত রোমাঞ্চিত হয়ে বোলাররা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে গেছেন।
এর আগে ব্যাটিংয়েও শেষ দিকে ধস নামে বাংলাদেশের। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করলেও পরে মাত্র ৭৫ রানের মধ্যে শেষ ৬ উইকেট হারায় দল। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস কিছুটা ভরসা দিলেও বড় জুটি না হওয়ায় স্কোর আরও বড় হয়নি।
তাসকিন আহমেদের দ্রুত ২৮ রানের ইনিংস দলকে ৪০০ পার করতে সহায়তা করলেও সালাহউদ্দীনের বিশ্বাস, বাংলাদেশ অন্তত আরও ৫০-৬০ রান করতে পারত।
দিন শেষে পাকিস্তানের হয়ে অভিষিক্ত দুই ব্যাটসম্যান আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৭৩ রান যোগ করেন। আজান অপরাজিত আছেন ৮৫ রানে। তাঁর ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন ইমাম উল হকও।
পাকিস্তানি ওপেনারের মতে, চাপের মধ্যেও আজান যেভাবে ব্যাট করেছে, তা দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে পাকিস্তান।