ঢাকা

ফ্রোবেলে প্রি-স্কুল গ্রাজুয়েশন, শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফ্রোবেল প্লে স্কুলের আপার কে–জি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘প্রি-স্কুল গ্র্যাজুয়েশন সেরেমনি ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (৮ মে) থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের দিল্লিভিত্তিক ‘আনজুমান লিডারশিপ থ্রু আর্টস’ এবং ‘ফুটপ্রিন্ট সেন্টার ফর লার্নিং ফোরাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা বিদিশা রায় দাস।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের আবেগ এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। গ্র্যাজুয়েশন সেরেমনিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল তাদের শিক্ষাজীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, যা তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্কুলের প্রিন্সিপাল হাওড়া (তেহসিন) জোহাইর। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনের প্রতিটি ধাপে যেন তারা জ্ঞান, সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের সুন্দর, উজ্জ্বল ও আলোকিত ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

এ সময় বিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা পাঁচজন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ ২০ বছরের বেশি, কেউ ১০ বছরের বেশি এবং কেউ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে ছিল দলীয় নৃত্য, জনপ্রিয় রূপকথা অবলম্বনে নাটিকা ‘স্লিপিং বিউটি’, মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক, ছড়া ও গান এবং মানবতা ও আশা জাগানিয়া ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ নাটিকা। শিশুদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং বারবার করতালিতে মুখরিত হয় মিলনায়তন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আপার কে–জি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও গ্র্যাজুয়েশন সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সন্তানদের অর্জনের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সৃজনশীলতা বিকাশ এবং শিক্ষাজীবনের নতুন ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স