দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে পাঠ্যসূচি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাপঞ্জিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শনিবার (১০ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘চীন–বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা ফোরাম–২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং চায়না–বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষা খাতের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। একটি দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি পাঠ্যবিষয়বস্তু, শিক্ষণপদ্ধতি এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারকে বাস্তবমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাঠ্যসূচি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাপঞ্জিতে পরিবর্তন
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; পাঠ্যসূচি, শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষাপঞ্জিকেও সময়োপযোগী করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষকরা আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা হবে দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধ
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধ আরও শক্তিশালী করতে চাই। সেই সেতুর মূল উপকরণ হবে শিক্ষা।”
একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এ সমঝোতার আওতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনীর উদ্বোধন
ফোরাম শেষে অতিথিরা শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। পরে তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী সম্পর্কে অবহিত হন।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
শিক্ষা খাতে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষাক্রম সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।