নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য, সমন্বয় ও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে দলীয় সমর্থন ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের ওপর।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নেতাদের সঙ্গে দিনব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘একটি যুদ্ধ শেষ, আরেকটি যুদ্ধ শুরু’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হলেও এখন শুরু হয়েছে আরও বড় দায়িত্বের সময়। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তার ভাষায়, “আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটি হলো আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম, তার বাস্তবায়ন করা।”
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা পূরণ করতে সরকার ও দলের সবাইকে নতুন করে সংগ্রামে নামতে হবে।
নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহার
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহার ছিল দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পর সেই ইশতেহার এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে এটি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।”
এই ইশতেহার বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কোনো ধরনের গাফিলতি করবে না।
সুশাসন, শিক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে এবং নারী, পুরুষ ও শিশু সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে এবং ভিন্নমত নিয়ে খোলামেলা বিতর্ক করার সুযোগ থাকবে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দল এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে প্রতিহিংসার বদলে থাকবে মতের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক সহাবস্থান এবং আইনের শাসন।
নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে জনগণের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জনগণ বিএনপি ও দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতি আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা এখন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক
মতবিনিময় সভা শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হয়ে দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সরকার ও দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনআস্থা ধরে রাখা—এসবই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।