দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে “ধ্বংসস্তূপ” আখ্যা দিয়ে তা থেকে রাষ্ট্র, সরকার ও দলকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়াই নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে সংকট এতটাই গভীর যে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি ও অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘বড় যুদ্ধ শেষ, এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লড়াই’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রম করেছেন, যা তিনি “যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, “আপনারা বড় রকমের যুদ্ধ শেষ করে এসেছেন। সেই যুদ্ধ হচ্ছে দেশের মানুষকে রক্ষা করার, দেশকে রক্ষা করার এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার। সেই যুদ্ধে আপনারা জয়ী হয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, যা দলের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে।
‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকে উত্তরণের আহ্বান
দেশের বর্তমান অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন খাতে চরম সংকট বিদ্যমান। তিনি বলেন, “যেদিকে তাকাবেন, সেদিকে শুনবেন—নাই, নাই, নাই। আসলে অবস্থাটা তাই।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা, টেনে তোলা—দলকে শুধু নয়, সরকারকে ও রাষ্ট্রকে। এটাই আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।”
তার মতে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দল পুনর্গঠনের আহ্বান
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সময় দলকে আরও সুসংগঠিত করার। তিনি বলেন, নেতৃত্বের ত্যাগ ও দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাসকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্ব, দলের নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ—এসব স্মরণ করে দলকে আরও সুসংগঠিত করি।”
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তৃণমূলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে দলের ঘোষিত কর্মসূচি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
মতবিনিময় সভা ও উপস্থিত নেতারা
সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া এই দিনব্যাপী মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রুদ্ধদ্বার পরিবেশে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বের এই বক্তব্য মূলত দলীয় ঐক্য, সংগঠন পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতির বার্তা বহন করে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কৌশলগত ইঙ্গিতও রয়েছে।
সভা শেষে নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।