ঢাকা

লেভিটের নতুন মাতৃত্বকে কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক বার্তা বিনিময়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সদ্য কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে দেশটির আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস লেভিটকে উদ্দেশ করে ‘মিনাব’ এলাকার একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত শিশুদের ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেয়—যা নতুন করে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনাকে সামনে এনেছে।

গত বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) ক্যারোলাইন লেভিট তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের ঘোষণা দেন। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ভিভিয়ান, যাকে তিনি আদর করে ‘ভিভি’ বলে ডাকেন।

এক্সে দেওয়া পোস্টে লেভিট লেখেন, “১ মে, ভিভিয়ান ওরফে ভিভি আমাদের পরিবারে যুক্ত হয়েছে, আর আমাদের হৃদয় মুহূর্তেই ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও জানান, নবজাতক সুস্থ রয়েছে এবং তার বড় ভাইও নতুন সদস্যকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। লেভিটের পোস্টে একটি ছবিও যুক্ত ছিল, যেখানে তাকে নার্সারিতে নবজাতক কন্যাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

২৮ বছর বয়সী ক্যারোলাইন লেভিট বর্তমানে হোয়াইট হাউস-এর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইরানি দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া

লেভিটের পোস্টের পর আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তার প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে এক্সে একটি বার্তা প্রকাশ করে। তবে ওই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনাও করা হয়।

দূতাবাস লিখেছে, “আপনাকে অভিনন্দন। শিশুরা নিষ্পাপ এবং ভালোবাসার যোগ্য। মিনাবের স্কুলে আপনার বস যে ১৬৮ শিশুকে হত্যা করেছেন এবং আপনি যেটি সমর্থন করেছিলেন, তারাও শিশুই ছিল। যখন আপনি আপনার শিশুকে চুমু দেবেন, তখন সেই শিশুদের মায়েদের কথাও ভাববেন।”

এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মিনাবের স্কুলে হামলার অভিযোগ

ইরানের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তায়িবা নামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় বহু শিশু নিহত হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৭৩ ছেলে ও ৪৭ মেয়ে শিক্ষার্থীসহ মোট শতাধিক শিশু নিহত হয়। পাশাপাশি ২৬ জন শিক্ষক, ৭ জন অভিভাবক, স্কুল বাসচালক এবং পাশের একটি ক্লিনিকের একজন ফার্মেসি টেকনিশিয়ানও প্রাণ হারান বলে দাবি করা হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি ছিল সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা।

মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত হানে। তবে ওই প্রতিবেদনে এটিকে প্রাথমিক সামরিক তদন্তের তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে এএফপি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও নিহতদের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

ইরানের অভিযোগ, এই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বিতর্ক

ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে দাবি করেন, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলে আঘাত হেনেছে। তবে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ইরান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের কাছে এমন কোনো টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নেই যা ওই ধরনের হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে।

মানবিক বার্তা নাকি রাজনৈতিক বার্তা?

লেভিটকে দেওয়া ইরানি দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তাকে অনেক বিশ্লেষক মানবিক শুভেচ্ছা হিসেবে দেখলেও একই সঙ্গে এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকের জন্মের মতো ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনা মূলত চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনারই প্রতিফলন।

নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশু নিহত হওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, একটি নবজাতকের জন্মকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শুভেচ্ছা বার্তা দ্রুতই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক উত্তেজনার আলোচনায় রূপ নিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স