ঢাকা

ব্যাংককে প্যারোলে মুক্তি পেলেন থাকসিন, সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ কারাবাসের পর সোমবার সকালে তাঁকে ব্যাংককের ক্লোংপ্রেম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির মুহূর্তে কারাফটকে ভিড় করেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও শতাধিক সমর্থক।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে থাকসিন কারাগার ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে Bangkok Post। মুক্তির সময় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং জাতীয় সংগীতের সময় থাই পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

পরিবারের উপস্থিতিতে আবেগঘন মুহূর্ত

কারাগারের সামনে উপস্থিত ছিলেন থাকসিনের পরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে তাঁর মেয়ে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাও ছিলেন। মুক্তির পরপরই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি আবেগঘন আলিঙ্গন করেন।

এ সময় তাঁর রাজনৈতিক দল Pheu Thai Party–এর নেতাকর্মী এবং ‘রেড-শার্ট’ সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যে তিনি ধীরগতিতে গাড়িতে করে কারাগার এলাকা ত্যাগ করেন।

মুক্তির সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট। দীর্ঘদিন কারাবাসের কারণে তাঁর চুল ছোট ও সাদা হয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্যারোলের শর্ত ও নজরদারি

থাই কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, থাকসিনকে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্যারোলে রাখা হবে। এই সময় তিনি বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরিধান করবেন।

থাইল্যান্ডের ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস জানিয়েছে, সাধারণ প্যারোলে মুক্ত থাকা ৮৫৯ জন বন্দীর মধ্যে থাকসিনও একজন।

নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তির তিন দিনের মধ্যে তাঁকে ব্যাংকক প্রবেশন অফিস–১–এ হাজিরা দিতে হবে। তাঁর বাসভবন ব্যাংক ফ্লাট জেলার বান চান সং লা এলাকায় হওয়ায় সেটিও এই দপ্তরের আওতাভুক্ত। প্যারোল চলাকালে প্রতি মাসে একবার তাঁকে রিপোর্ট করতে হবে।

কারাবাসের পটভূমি

৭৬ বছর বয়সী থাকসিন গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে ছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালে থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

আদালত জানায়, পুলিশ জেনারেল হাসপাতালের ভিআইপি ওয়ার্ডে দীর্ঘ সময় অবস্থানকে কারাভোগ হিসেবে গণ্য করা হবে না। তবে পরবর্তীতে তিনি দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করায় প্যারোলের যোগ্যতা অর্জন করেন।

হাসপাতালে অবস্থান ও বিতর্ক

২০২৩ সালের ২২ আগস্ট কারাগারে নেওয়ার পরপরই বুকে ব্যথার অভিযোগ করলে তাঁকে দ্রুত পুলিশ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন তিনি।

পরবর্তীতে আদালত ওই স্থানান্তরকে ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করে।

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে প্রত্যাবর্তন

প্রায় ১৫ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন থাকসিন। সেই প্রত্যাবর্তনের পরপরই তিনি আইনি জটিলতায় পড়েন এবং পুনরায় কারাবন্দি হন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

থাকসিনের মুক্তি থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা এটিকে ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা আইনি প্রক্রিয়া ও বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মুক্তি দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে তাঁর দল Pheu Thai Party–এর রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে।



কারাগার থেকে মুক্ত হলেও থাকসিন সিনাওয়াত্রার সামনে এখনও রয়েছে প্যারোলের বিধিনিষেধ, নজরদারি এবং রাজনৈতিক চাপ। তবে তাঁর মুক্তি থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স