ঢাকা

‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’—ইরানের প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

Donald Trump লিখেছেন, তিনি ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেছেন এবং তা “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি প্রস্তাবের বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের জবাব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Iran তাদের যুদ্ধবিরতির জবাব মধ্যস্থতাকারী দেশ Pakistan-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই কৌশলগত জলপথ কীভাবে বা কখন পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের প্রস্তাবে কী ছিল

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা যায়, তেহরানের প্রস্তাবে ছিল—

সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক হামলা না করার নিশ্চয়তা
ইরানি তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
বিদ্যমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া

এছাড়া একাধিক সূত্রের দাবি, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়েও সীমিত নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইউরেনিয়াম ইস্যুতে আপসের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক The Wall Street Journal নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশের মাত্রা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় আনা হয়েছিল—যা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অনিশ্চিত

ইরানের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি যুদ্ধবিরতির একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে তাৎক্ষণিক সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, লেবানন ও পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিনটি ইস্যু এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক প্রস্তাব ও প্রত্যাখ্যান নতুন করে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স